নেপালের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা! পদত্যাগ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি?

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সম্ভবত দেশ ত্যাগ করতে পারেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নেপালে গত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে আসছে, যেখানে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে দেশটি ১৪টি সরকার দেখেছে। কেপি শর্মা ওলি নিজেই চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তার প্রতিটি মেয়াদই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া খবরের পেছনে দুটি মূল কারণকে সামনে আনা হচ্ছে:

স্বাস্থ্য সমস্যা: দীর্ঘদিন ধরে ওলি কিডনি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন এবং দু’বার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি আগেও ডায়ালাইসিস নিয়েছেন। তাই, চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফর তার দেশ ছাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

রাজনৈতিক চাপ: নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সিপিএন-ইউএমএল-এর অভ্যন্তরীণ কোন্দল তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের সমর্থকদের আন্দোলন এবং রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে পুষ্প কমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’-এর নেতৃত্বাধীন সরকার অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর ওলি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি সংসদে ১৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হলেও, এই জোট সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

নেপালের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওলির সম্ভাব্য দেশত্যাগ তার দলীয় কোন্দল এবং জোটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার একটি কৌশল হতে পারে। এই পদক্ষেপ নেপালের রাজনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।