নেপালের নিয়ন্ত্রণ এখন সেনার হাতে, কে হবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর নেপালে এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সেনার হাতে। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এবং একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য চলছে জরুরি বৈঠক। তবে এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এই মুহূর্তে বিক্ষোভকারী ‘জেন জি’ গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করছেন। ভদ্রকালীতে সেনার প্রধান কার্যালয়ে চলা এই বৈঠকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধানের নাম চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।

কারা আছেন সম্ভাব্য প্রধানের তালিকায়?
প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর থেকেই কাঠমান্ডুর মেয়র বলেন্দ্র শাহের নাম এই পদের জন্য সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। তার পাশাপাশি, এই তালিকায় রয়েছেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি, নেপালের বিদ্যুৎ দফতরের প্রাক্তন সিইও কুলমান ঘিষিং এবং ধরানের মেয়র হরকা সামপাং।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারী ‘জেন জি’ গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে সমর্থন করছেন। বলেন্দ্র শাহও তাকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে খবর। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধানের দায়িত্ব হবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এবং দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

কীভাবে শুরু হলো এই বিক্ষোভ?
গত সোমবার থেকে নেপালে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের নিয়ে গঠিত ‘জেন জি’ গোষ্ঠী। প্রথম দিনেই পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন, এবং এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হলে তার স্ত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।

দেশের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর নেপালের সেনা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে। এখন সকলের দৃষ্টি সেনার সদর কার্যালয়ের দিকে, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য আলোচনা চলছে।