যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের তৈরি দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দিল সুদূর চেন্নাইয়ে

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির ফাঁকে নিজের হাতে গড়া দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ শিল্পী আকাশ ওরফে সন্দীপ হাঁটু। তার বানানো মাত্র আড়াই ফুটের এই প্রতিমা এবার পাড়ি দিচ্ছে সুদূর চেন্নাইয়ে। পড়াশোনা এবং দারিদ্র্য – দুইয়ের সাথে লড়াই করে স্বপ্নের প্রতিমা গড়ে সন্দীপ এখন নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে।
ইউটিউব দেখে শেখা, দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই
জিরাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আবাসিক শিবিরে থেকে পড়াশোনা করে সন্দীপ। তার বাবা সুকুমার হাঁটু একজন টোটোচালক। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও সন্দীপ ছোটবেলা থেকেই মাটির কাজ ভালোবাসত। পাড়ার মৃৎশিল্পীদের কাজ দেখে এবং ইউটিউব থেকে শিখে সে নিজের প্রতিমা গড়ার স্বপ্ন দেখে। প্রথমদিকে বাবা-মা রাজি না থাকলেও, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার জয়প্রকাশ মিশ্রের বোঝানোয় তারা অনুমতি দেন।
প্রথম সৃষ্টিতেই সাড়া, যাচ্ছে চেন্নাইয়ে
এই বছরই প্রথম দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করেছে সন্দীপ। একচালার কাঠামোতে আড়াই ফুট উচ্চতার প্রতিমাটি তৈরি করতে তার সময় লেগেছে মাত্র এক মাস। ডাকের সাজে সজ্জিত এই প্রতিমাটিতে মা দুর্গা ছাড়াও রয়েছে লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ ও সরস্বতী। সন্দীপের তৈরি এই দুর্গাটির ছবি দেখে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা মিনা সেন মুগ্ধ হন এবং এর অর্ডার দেন। শুধু তাই নয়, চেন্নাই থেকে আরও একটি লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমার অর্ডারও পেয়েছে সে।
সন্দীপ জানায়, “মাটির কাজ করতে আমার খুব ভালো লাগে, কিন্তু বাবা-মা প্রথমদিকে বারণ করতেন। এখন আমার তৈরি প্রথম দুর্গা বাংলার বাইরে যাচ্ছে, এটা আমার কাছে খুব বড় একটা ব্যাপার।”
তার তৈরি এই প্রতিমা ২০ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের নিউ প্যানাভেলে পৌঁছে যাবে। পড়াশোনা, আর শিল্প সাধনা – এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সন্দীপের যাত্রা এখন আরও উজ্জ্বল।