নেতানিয়াহুর অগ্নিপরীক্ষা! অক্টোবরেই ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন, চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে নজির

ইসরায়েলের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেশটিতে নতুন সরকার নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসরায়েলের সরকারি শাসক জোটের পক্ষ থেকে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করা হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই নির্বাচনটি ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। বিগত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইসরায়েলে প্রায়শই নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু এবার বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের পূর্ণ চার বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে চলেছে। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং গত পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথম কোনো সরকার তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে সক্ষম হলো।
আইন অনুযায়ী, বর্তমান নেসেট বা সংসদের মেয়াদ ১৭ জুলাই শেষ হচ্ছে। সেই অনুযায়ী, ১৭ জুলাই থেকে অধিবেশন স্থগিত করা হবে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের প্রার্থীদের তালিকা জমা দেওয়ার জন্য ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। ২০২২ সালে এক রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার গঠন করেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের অতর্কিত হামলার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভাবমূর্তি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। বর্তমানে গাজা, লেবানন এবং ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে নেতানিয়াহু একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন, তেমনি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন।
পাশাপাশি, ২০১৯ সাল থেকে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলিও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় বাধা। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হতে পারে। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার জন্য নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং গত কয়েক বছরের ঘটনাবলি এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি জনগণের গণভোট। এখন দেখার বিষয়, যুদ্ধের দামামা আর দুর্নীতির অভিযোগের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভোটাররা কি আবারও তাঁকে বেছে নেন, নাকি ইসরায়েলের শাসনক্ষমতায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগে।