নীল জার্সি বদলে হঠাৎ কেন গেরুয়া? চাঞ্চল্যকর কান্ডে বড় পদক্ষেপ নিলেন হকি ইন্ডিয়ার সভাপতি দিলীপ তিরকে!

ভারতীয় হকি দলের চিরাচরিত নীল জার্সি বদল নিয়ে দেশজুড়ে চলা চরম বিতর্কের জেরে অবশেষে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল হকি ইন্ডিয়া। জাতীয় দলের জার্সি নীল থেকে হঠাত্‍ কমলা বা গেরুয়া রঙে বদলে দেওয়ার একতরফা সিদ্ধান্তের জেরে হকি ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল কম্যান্ডার আর কে শ্রীবাস্তবকে সরাসরি শোকজ নোটিস পাঠালেন সভাপতি দিলীপ তিরকে। শুধু তাই নয়, এই নোটিসের মাধ্যমেই তাঁর সমস্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অবিলম্বে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো এই আইনি নোটিসে শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে মোট আটটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাঁকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এর সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

হকি ইন্ডিয়ার পাঠানো নোটিসে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে আর কে শ্রীবাস্তবের সমস্ত ক্ষমতা অবিলম্বে বাতিল করা হলো এবং পরবর্তী কোনো নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংগঠনের পক্ষে আর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। তাঁর হাত থেকে প্রশাসনিক কাজ, আর্থিক লেনদেন, জনসংযোগ এবং বিভিন্ন চুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্ত সরকারি নথি, গোপন ফাইল, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং অফিসের সমস্ত পাসওয়ার্ড অবিলম্বে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোনো ধরনের সরকারি নথি যাতে কোনোভাবেই নষ্ট বা ডিলিট করা না হয়।

এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় হকি দলের জার্সি বদল সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠেছে, দৃশ্যমানতার আজগুবি অজুহাত দিয়ে হকি দলের ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সির রঙ কে বদল করেছিল? দিলীপ তিরকের অভিযোগ, সভাপতি কিংবা কার্যকরী সমিতির কোনো ধরনের আগাম অনুমতি না নিয়েই এই একতরফা সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। নোটিসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, কার অদৃশ্য ইন্ধনে এবং কার অনুমতিতে এই বড় পরিবর্তন আনা হলো? অথচ বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাপ্রুভাল বা প্রামাণ্য নথি তিনি পেশ করতে পারেননি।

শুধু জার্সি বিতর্কই নয়, এর পাশাপাশি হকি ইন্ডিয়া লিগ ও অন্যান্য জরুরি কাজের জন্য গত ৩০ জুলাই সভাপতি ইমেল মারফত ডিজি-কে দেশে উপস্থিত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ পুরোপুরি অমান্য করে তিনি নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে হকি বিশ্বকাপ দেখতে উড়ে যান। অথচ যে সমস্ত প্রাক্তন তারকা খেলোয়াড়দের সরকারিভাবে সেখানে পাঠানোর কথা ছিল, তারা যেতে পারেননি। সভাপতির এই স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করাকে সরাসরি ক্ষমতার অবাধ্যতা ও চরম অপমান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া পিআর এজেন্সির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে টালবাহানা করা, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় উদাসীনতা দেখানো, কোচ ক্রেগ ফুলটনের অসন্তোষের সম্পূর্ণ রিপোর্ট গোপন করা এবং নির্বাচিত কমিটিকে অন্ধকারে রেখে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সঙ্গে সমান্তরাল গোপন যোগাযোগের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।