২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রচার শেষ হয়েছে সোমবার বিকেলে। আর প্রচারের ঠিক শেষ লগ্নে বাংলার কোটি কোটি মানুষের উদ্দেশে এক আবেগঘন অডিও বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে বাংলার প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছেছে তাঁর এক বিশেষ ‘খোলা চিঠি’। প্রচারের অভিজ্ঞতাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক আধ্যাত্মিক রূপ দিয়ে মোদী জানিয়েছেন— এই নির্বাচন তাঁর কাছে কোনো সাধারণ প্রচার ছিল না, ছিল এক ‘তীর্থযাত্রা’।
“মা কালীর আশীর্বাদেই মিলল শক্তি”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর অডিও বার্তায় জানিয়েছেন, কড়া রোদে একের পর এক জনসভা এবং রোড-শো করলেও তিনি বিন্দুমাত্র ক্লান্তি অনুভব করেননি।
তীর্থযাত্রার অভিজ্ঞতা: মোদী বলেন, “বাংলার এই নির্বাচনী প্রচার আমার কাছে তীর্থযাত্রার মতো ছিল। আমি যেখানেই গিয়েছি, মা কালীর ভক্তদের চোখে যে ভক্তি ও আশীর্বাদ দেখেছি, তা আমাকে নতুন প্রাণশক্তি দিয়েছে।”
রাম মন্দিরের সঙ্গে তুলনা: অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে তিনি যেমন ১১ দিনের বিশেষ ব্রত পালন করেছিলেন, বাংলার এই নির্বাচনী সফরকেও তিনি একই রকম পবিত্র আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন।
খোলা চিঠিতে বড় প্রতিশ্রুতি
বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছানো চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মূলত ‘বিকাশিত বাংলা’ (Developed Bengal) গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। চিঠির উল্লেখযোগ্য অংশগুলো হলো: ১. শপথ অনুষ্ঠানে ফেরার ডাক: মোদী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর তিনি ফের বাংলায় আসবেন— তবে প্রচারের জন্য নয়, বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী ও নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। ২. যুব ও নারী শক্তির ওপর জোর: বাংলার যুবক ও মহিলাদের জন্য নিরাপদ এবং উন্নত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ৫টি বিশেষ ‘ইয়ুথ গ্যারান্টি’-র কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন চিঠিতে। ৩. ভোটের আবেদন: চিঠির শেষে ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে রেকর্ড সংখ্যক ভোটাভুটির আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে বিজেপির জয়ের পতাকা ওড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ আপনাদের হাতে।”
নির্বাচনী মহলে শোরগোল
প্রচারের শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর এই অডিও বার্তা এবং ব্যক্তিগত চিঠিকে রাজনীতির কারবারিরা এক বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখছেন। সরাসরি বাংলার মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে ছুঁয়ে যাওয়ার এই প্রয়াস বুথ স্তরে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
মোদীর গ্যারান্টি: চিঠির শেষে তিনি লিখেছেন, “আমরা সবাই মিলে বাংলাকে উন্নত করব— এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”
বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রীর এমন আবেগপূর্ণ সরাসরি যোগাযোগ আগে দেখা যায়নি বলেই মত অনেকের। ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই মুহূর্তে এটিই নির্বাচনী ময়দানের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ডিং খবর।





