‘ও আমাদের জন্য অপয়া’! কুসংস্কারের চরম সীমা, একরত্তি শিশুকে রাস্তায় ফেলে পালাল অমানবিক বাবা-মা

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কুসংস্কার যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত ও মর্মান্তিক উদাহরণ দেখল শহর। নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানকে ‘অপয়া’ বা ‘অলক্ষ্মী’ তকমা দিয়ে অন্ধকার রাস্তায় ফেলে দিয়ে পালিয়ে গেল এক দম্পতি। অমানবিক এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন প্রতিবেশী থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিকরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, সোমবার রাতে রাস্তার ধারে এক শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা জমায়েত হন। তাঁরা দেখেন, একটি একরত্তি শিশু কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে ছটফট করছে। আশেপাশে কাউকে না দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীদের। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে জানা যায়, এক দম্পতি শিশুটিকে সেখানে রেখে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।

‘অপয়া’ অপবাদেই কি এই নিষ্ঠুরতা?

তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, দম্পতিটি বেশ কিছু দিন ধরেই পরিবারে অশান্তি এবং আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তাঁদের বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, এই সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকেই তাদের জীবনে দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে।

পারিবারিক আত্মীয়দের একাংশের দাবি, শিশুটিকে তাঁরা ‘অপয়া’ মনে করতেন। আর সেই অন্ধ কুসংস্কারের বশবর্তী হয়েই এই অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। নিজের নাড়িছেঁড়া ধনকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ফেলে যেতেও হাত কাঁপেনি ওই পাষাণ বাবা-মায়ের।

উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা

পুলিশ দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। শিশু কল্যাণ সমিতির (CWC) হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ

অভিযুক্ত দম্পতির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা আইন এবং খুনের চেষ্টার মতো কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে— বিজ্ঞানের যুগেও কি কুসংস্কার এভাবেই কেড়ে নেবে মানবিকতা?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy