দিল্লির রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ইমপিচমেন্ট’ বা অভিশংসনের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করলেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গ ভবনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে মমতা স্পষ্ট করে দেন, প্রয়োজন পড়লে সাংবিধানিক পথে হেঁটেই নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবি তুলবে তাঁর দল।
বিগত কয়েকদিন ধরেই বাংলার এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত চলছে তৃণমূলের। গতকাল নির্বাচন সদনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হওয়া তো দূরঅস্ত, উল্টে কমিশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘অহংকারী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে ইমপিচমেন্টের দাবি তুললেন তিনি।
এদিন বঙ্গ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনস্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি পিছপা হবেন না। রাহুল গান্ধীর প্রস্তাবিত ‘রেট্রোস্পেকটিভ আইন’ এবং নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রসঙ্গ উঠলে মমতা বলেন, “যদি কোনো পদক্ষেপ জনগণের মঙ্গলের জন্য হয় এবং তা যুক্তিসঙ্গত হয়, তবে আমরা অবশ্যই সমর্থন করব। আমরা চাই জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক।”
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মমতার গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, “আমাদের হয়তো বর্তমানে ইমপিচমেন্ট সফল করার মতো ম্যাজিক নম্বর নেই, কিন্তু সংবিধানের ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছে। সংসদীয় নথিতে অন্তত রেকর্ড হয়ে থাকবে যে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে আলোচনার পর বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে এককাট্টা হয়ে লড়াই করার বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
মমতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং বিরোধী দলগুলোকে প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছেন না। গতকালের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উনি এমন আচরণ করছেন যেন উনি জমিদার আর আমরা তাঁর চাকর। আমাদের অপমান করা হয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমাপতন আগামী দিনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দিল্লিতে বসে মমতার এই হুঁশিয়ারি যে আসলে ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ের এক বড় রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত, তা বলাই বাহুল্য।