সোমবার জাতীয় রাজনীতির পারদ ছিল তুঙ্গে। সকালে বঙ্গভবনে দিল্লি পুলিশের আকস্মিক অভিযান ঘিরে যখন উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই বিকেলে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। কিন্তু বৈঠক শেষে যে মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট যে কমিশনের উত্তরে তিনি বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন। উল্টে নির্বাচন কমিশনকে ‘মহিলা-বিরোধী’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। মমতা বলেন, “মেয়েদের বিয়ের পর পদবী বদল হয়। আর সেই অজুহাতে তাঁদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা সরাসরি মহিলা-বিরোধী মানসিকতা।” তিনি আরও যোগ করেন, স্রেফ ‘মিসম্যাচ’-এর দোহাই দিয়ে প্রায় ২ কোটি মানুষের নাম বাতিলের চক্রান্ত চলছে।
নির্বাচনের ঠিক কয়েক মাস আগে কেন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালানোর প্রয়োজন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সাফ কথা, “নির্বাচনমুখী চারটি রাজ্যকে কেন রেহাই দেওয়া হলো না? অসম বা উত্তর-পূর্বের বিজেপি শাসিত রাজ্যে তো এমনটা করা হয়নি। এমনকি আমি নিজে আজ পর্যন্ত আমার জন্মের শংসাপত্র সংগ্রহ করতে পারিনি, সাধারণ মানুষের অবস্থা তাহলে কী?”
এদিন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে শুধু নেতা-মন্ত্রীরা নন, মমতা সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন সেইসব বিএলও (BLO) পরিবারের সদস্যদের, যাঁরা এই প্রক্রিয়ার চাপে প্রাণ হারিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যাঁরা জীবিত, তাঁদেরও মৃত বলে ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হরিয়ানা, বিহার বা মহারাষ্ট্রে এই কৌশলেই জিতেছে বিজেপি। আমি আজ ১০০ জনকে নিয়ে এসেছি, প্রয়োজনে ১ লক্ষ মানুষকে দিল্লির রাজপথে নিয়ে আসব।”
সবশেষে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতার বিস্ফোরক উক্তি, “জনতা কি সরকার বাছবে না? নাকি কমিশন নির্বাচনের আগেই সরকার ঠিক করে দেবে? শুধু নিজের মেয়ে-জামাইকে বাঁচাতেই কি এই পর্দার পিছনের খেলা? আমরা আপনাদের চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু আপনারা ৫৮ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।” এই ঘটনার পর দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।