গত ৩০ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিজের ওপর হওয়া হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ তুঙ্গে। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের একাংশে দাবি করা হয় যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রের কাছে বিশেষ নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন। এবার সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে সরাসরি মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি কড়া পোস্ট করে অভিষেক এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘সত্য থেকে বহু দূরে’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই হামলার পর থেকে তিনি নিজের সুরক্ষার জন্য কোনো মহলের কাছেই কোনো বিশেষ নিরাপত্তার আবেদন জানাননি। তাঁর কথায়, “এই ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া আর কিছুই নয়।”
প্রশাসনের ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় অভিষেক: নিরাপত্তা চাওয়ার দাবি নস্যাৎ করে অভিষেক বরং রাজ্যে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসন (ডবল ইঞ্জিন সরকার) থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন বিরোধী নেতার ওপর হামলা হলো, তা বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ। এই ঘটনার জন্য তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বলেছেন।
আমজনতার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: নিজের নিরাপত্তার চেয়েও অভিষেক বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, গত এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। তাঁর আক্ষেপ, এই ঘটনাগুলোর অনেকগুলোই সংবাদমাধ্যমের প্রচারের আলোয় সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না।
শাসকদলের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, “রাজনীতি নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” পরিশেষে, সংবাদমাধ্যমের একাংশকে ভিত্তিহীন খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।





