নির্বাচনের আবহে ফের একবার প্রাণসংশয়ের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! মালদহের সামসীতে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের একদম সামনে আচমকা ড্রোন চলে আসায় তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। ঘটনায় বিহারের বাসিন্দা ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে সবথেকে বড় চমক ধৃতদের দাবি—তাঁরা নাকি তৃণমূলেরই সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেনের হয়ে কাজ করছিলেন!
“অ্যাক্সিডেন্টে কপ্টার ধ্বংস হয়ে যেত”: আতঙ্কিত মমতা
শনিবার মালদহের সামসীতে নির্বাচনী সভা সেরে যখন মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে উঠছিলেন, ঠিক তখনই কপ্টারের পাদানিতে থমকে যান তিনি। মাথার ওপর একটি ড্রোন উড়তে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল নেত্রী। হ্যান্ড মাইকেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“হেলিকপ্টারটা অ্যাক্সিডেন্টে ধ্বংস হয়ে যেত! কারা করছে এসব? পুলিশের নজর রাখা দরকার। যারা এটা করেছে তাদের আইডেন্টিফাই করা দরকার।”
ধৃতদের বিস্ফোরক দাবি:
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরই ভিড়ের মধ্যে থেকে অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল ও নূর আখতার নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতরা প্রত্যেকেই বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা। পুলিশের জেরায় তাঁরা দাবি করেছেন:
তাঁরা হরিশচন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজ করছিলেন।
‘বেস্ট ফুটেজ’ পাওয়ার চক্করেই তাঁরা ড্রোনটি হেলিকপ্টারের অত কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।
ড্রোন ওড়ানো যে অপরাধ, তা নাকি তাঁদের জানাই ছিল না!
বারবার কেন বিপাকে মমতার আকাশপথ?
গত ২৬ মার্চই ঝড়ের কবলে পড়ে মমতার বিমান প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট আকাশে চক্কর কেটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ড্রোন বিভ্রাট। হাই-সিকিউরিটি জোনে কীভাবে ড্রোন উড়ল, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ধৃতদের নিজেদের কর্মী বলে এখনও স্বীকার করা না হলেও, বিরোধীরা এই ঘটনাকে ‘নিরাপত্তার চূড়ান্ত ব্যর্থতা’ বলে কটাক্ষ করছে।





