নিট কাণ্ডে বিরাট ঘোষণা অমিত শাহের! ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্তে কী বার্তা দিল কেন্দ্র?

দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে এবার অত্যন্ত জোরালো অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার নিজের সরকারি এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ পোস্ট করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের সামগ্রিক কল্যাণ এবং তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই নরেন্দ্র মোদী সরকারের সর্বাঙ্গীন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও প্রধান অঙ্গীকার। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য পৃথক ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
অমিত শাহ তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে দেশের নিষ্পাপ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা অসাধু চক্র ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে। মূলত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঠিক আগের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার রেশ ধরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সামনে এল। দীর্ঘদিনের তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এর আগে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমস্ত মামলার অতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সামাজিক মাধ্যম পোস্টে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে লিখেছিলেন, “আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না।” পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য দেশের সংশ্লিষ্ট সবকটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তবে সরকারের এই বার্তার পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের আগুন বিন্দুমাত্র কমেনি। বিশেষ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বাধীন ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলন বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের জোরালো দাবি তুলে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বুধবার গভীর রাতে দিল্লির বুকে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এই একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের বর্তমান বর্ষাকালীন অধিবেশনও প্রতিদিন বারবার অচলাবস্থার মুখে পড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একজোট হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং এই ভয়াবহ কেলেঙ্কারি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবিতে অনড় রয়েছে।
এই সমস্ত রাজনৈতিক তরজা ও চাপের মাঝেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা বারবার পুনর্ব্যক্ত করছেন। বিজেপি নেতা নিতিন নবীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন রক্ষার্থে কেন্দ্র সরকার সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে দিল্লির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো, কেবল অপরাধীদের সামান্য শাস্তি দিয়েই সরকারের দায় সারলে চলবে না, বরং ভবিষ্যতে যাতে আর কখনও এমন লজ্জাজনক প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়, তার জন্য গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত আমূল সংস্কার এবং সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।