নিট কাণ্ডে উত্তাল দিল্লি, মোদির কড়া বার্তার জবাবে রাহুল তুললেন বরখাস্তের জোরালো দাবি!

রাজধানী দিল্লি এখন ছাত্র আন্দোলনের জেরে তীব্রভাবে উত্তাল। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে এই গোটা পরিস্থিতিতে ছাত্রদের উদ্দেশে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর ঠিক তার পরেই আসরে নেমে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানান কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তর চত্বর সহ গোটা দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে তীব্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং বন্ধ রাখা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন।
এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সরকারি এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “আমরা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সঙ্গে জড়িতদের জন্য দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি ধাপ। এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট বিভাগটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। যারা আমাদের যুবকদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করার চেষ্টা করছে, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।”
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীর ওই একই পোস্ট রিপোস্ট করে রাহুল এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আপনিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার নেপথ্যে আপনার সরাসরি উৎসাহ রয়েছে। যাঁরা এর জন্য দায়ী, আপনি বরাবর তাঁদের রক্ষা করে গিয়েছেন। এ দেশের সাধারণ ছাত্রদের দাবি এখন অত্যন্ত স্পষ্ট—প্রথমত, অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে; দ্বিতীয়ত, দেশের ছাত্র সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে; এবং তৃতীয়ত, যারা নিরীহ ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানী দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। এই ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বুধবার গভীর রাতেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় যন্তর মন্তর চত্বর। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই আন্দোলনে জমায়েত আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানোর জন্য এবং সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আজ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দিল্লির মোট ১৬টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই বন্ধ থাকা স্টেশনগুলির তালিকায় রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মেট্রো স্টেশনগুলি।