লোকসভা নির্বাচনের আবহে জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট থাকলেও, বাংলার মাটিতে ঘাসফুল বনাম হাত শিবিরের লড়াই এখন চরমে। রাজ্যে প্রচারে এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর ক্ষুরধার আক্রমণের পাল্টায় এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করল তৃণমূল কংগ্রেস। বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ সরাসরি দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে আসলে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন।
রাহুলের ‘আঁতাত’ তত্ত্ব ও আক্রমণ: শনিবার বাংলার সভা থেকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ তোলেন যে, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে। তাঁর যুক্তি ছিল, বিজেপি রাহুলের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা দিলেও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তেমন কঠোর পদক্ষেপ করছে না। রাহুলের দাবি, “বিজেপি জানে আসল লড়াই কংগ্রেসের সঙ্গেই, তৃণমূলের সঙ্গে নয়।” একইসঙ্গে তিনি মোদী ও মমতাকে এক বন্ধনীতে রেখে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
কুণাল ঘোষের কড়া পাল্টা জবাব: ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুলকে তুলোধোনা করে কুণাল ঘোষ বলেন:
“রাহুল গান্ধী জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছেন। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা বা বিহারে বিজেপিকে থামানোই ছিল তাঁর কাজ, কিন্তু তিনি সেখানে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ। এখন বাংলায় তৃণমূল একক শক্তিতে লড়ছে দেখে তিনি বিজেপিকে সাহায্য করতে নেমেছেন।”
কুণাল আরও মনে করিয়ে দেন যে, অন্য রাজ্যে লড়াই করতে না পেরে রাহুল এখন বাংলায় এসে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন।
মোদীর সঙ্গে তুলনা ও বাংলার পরিস্থিতি: রাহুল গান্ধী শুধুমাত্র মমতাই নন, প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও নিশানা করেছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং এর ফলে রাজ্যের যুবসমাজ দিশেহারা ও মহিলারা নিরাপত্তাহীন। যদিও রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, প্রধানমন্ত্রী মোদী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—কেউই এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসকে নিয়ে সেভাবে আক্রমণাত্মক হননি, যা এই লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
লড়াই যখন ত্রিমুখী: গত বিধানসভার ফলাফল অনুযায়ী লড়াই মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হলেও, কংগ্রেস নিজের জমি ফিরে পেতে মরিয়া। ‘ইন্ডি’ জোটের শরিক হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দুই দলই এখন একে অপরের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের ঠিক আগে রাহুল বনাম তৃণমূলের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কার বাক্সে ভোট টানবে, সেটাই এখন দেখার।





