সমাজবাদী পার্টিতে তোলপাড়! অশালীন মন্তব্যের জেরে শেষমেশ মায়াবতীর রোষানলে অখিলেশ যাদব?

সমাজবাদী পার্টির (এসপি) জাতীয় মুখপাত্র রাজকুমার ভাটির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে ওই নেতার করা একটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের জেরে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। শুক্রবার সোশ‍্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে সমাজবাদী পার্টির কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মায়াবতীর দাবি, এই ঘটনার পর গোটা রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে অনতিবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

নিজের পোস্টে বিএসপি প্রধান লিখেছেন, সমাজবাদী পার্টির একজন শীর্ষস্তরের জাতীয় মুখপাত্র যেভাবে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিশানা করে অশালীন এবং আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এফআইআর হওয়ার পরেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই, বরং বিতর্ক দিন দিন আরও বাড়ছে এবং রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও এদিন সুর চড়িয়েছেন মায়াবতী। তাঁর অভিযোগ, সমাজবাদী পার্টির দলীয় রাজনীতি বরাবরই সংকীর্ণ জাতপাতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আর সেই কারণেই এই সংবেদনশীল ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করছে। এই মৌনতাই বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে চলে যেতে সাহায্য করেছে।

মায়াবতী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এসপি মুখপাত্রের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য ব্রাহ্মণ সমাজের সম্মান ও আত্মসম্মানে গভীর আঘাত করেছে। এই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের উচিত অবিলম্বে এই ঘটনার দায় নেওয়া এবং প্রকাশ্যে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুঃখপ্রকাশ করা। তাঁর মতে, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য এটাই এখন একমাত্র সঠিক পদক্ষেপ।

এর পাশাপাশি অখিলেশ যাদবের দলকে তীব্র আক্রমণ করে মায়াবতী বলেন, এই বিতর্কিত ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে সমাজবাদী পার্টির জাততাবাদী চরিত্র ও রণকৌশল আসলে কেমন। তিনি দাবি করেন, দল হিসেবে বিএসপি সবসময় ব্রাহ্মণ, দলিত, অতি অনগ্রসর শ্রেণী এবং মুসলিমসহ সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষকে সম্মান দিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, এসপি-র দলীয় চরিত্র যে এখনও বদলায়নি, তা এই ঘটনা জনসাধারণের সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছে। দলিত, ওবিসি বা মুসলিমদের প্রতি তাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি, ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রেও তার কোনও ব্যতিক্রম নেই। বর্তমান সরকারের আচরণ নিয়ে এমনিতেই ব্রাহ্মণ সমাজের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে, তার ওপর সমাজবাদী পার্টির এই অবস্থান উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy