কৃষিকাজে মন্দা? পশুপালনেই ভাগ্য বদলাচ্ছে তরুণদের, কোন জাতের গরুতে মিলবে বাম্পার লাভ?

কৃষিকাজের পাশাপাশি বর্তমানে দেশের তরুণ ও কৃষকরা বাড়তি আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পশুপালনকে বেছে নিচ্ছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গরু, মহিষ ও অন্যান্য গবাদি পশু পালন এখন অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নিয়মিত দুধ বিক্রির মাধ্যমে নিশ্চিত আয়ের সুযোগ থাকায় যুবসমাজও পশুপালনে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সঠিক জ্ঞান ও পরিকল্পনার অভাব থাকলে লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
পশু বিশেষজ্ঞ ডঃ এন কে ত্রিপাঠীর মতে, পশুপালন শুরু করার আগে পশুর সঠিক জাত নির্বাচন, সুষম খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি, টিকাকরণ এবং খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পূর্ণ প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তথ্যের অভাবে অনেক সময় কৃষকরা এমন গরু কিনে ফেলেন যাদের দুধ উৎপাদনের ক্ষমতা আশানুরূপ হয় না। তাই কেবল গরুর আকার বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে জাত সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়।
দেশীয় গরুর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং লাভজনক জাতগুলির মধ্যে অন্যতম হল সাহিওয়াল, থারপারকার, গির এবং লাল সিন্ধি। উত্তর ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় সাহিওয়াল গরুর লালচে-বাদামী রঙ ও শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত, যা গড়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে। রাজস্থানের থর অঞ্চলের প্রতিকূল ও শুষ্ক আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম থারপারকার গরু প্রতিদিন ১০ থেকে ১৮ লিটার দুধ উৎপাদনে সক্ষম। অন্যদিকে, রাজকীয় শারীরিক গঠন ও বড় বাঁকানো কানের জন্য বিখ্যাত গির গরু দৈনিক ১০ থেকে ১৫ লিটার দুধ দেয়। গাঢ় লাল রঙের শক্তিশালী শিংযুক্ত লাল সিন্ধি জাতের গরু প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ১২ লিটার দুধ দিয়ে থাকে।
শুধুমাত্র ভালো জাতের গরু কিনলেই হবে না, পশুর সুষম খাদ্যাভ্যাসও দুধ উৎপাদন ও স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। খামারিদের উচিত কেবল শুকনো খড় বা গতানুগতিক খাবারের ওপর নির্ভর না করে গবাদি পশুর পুষ্টির কথা মাথায় রেখে সুষম খাদ্য সরবরাহ করা, যা খামারের লাভজনকতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।