‘নরবলি’ প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক, অ্যাঙ্করের বিরুদ্ধে FIR খারিজ করে নজির গড়ল গুয়াহাটি হাইকোর্ট! রায়কে ঘিরে তোলপাড়

সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের অ্যাঙ্কর অঙ্কাক্ষা স্বরূপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। কামাখ্যা মন্দিরে কথিত ‘মানব বলি’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলায় অ্যাঙ্করের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ ও ‘সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ উস্কে দেওয়া’র অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল।
চলতি বছরের জুন মাসে গুয়াহাটির সাইবার শাখা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(২), ২৯৯ ও ৩০২ ধারায় অঙ্কাক্ষা স্বরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত এবং বিতর্কিত প্রশ্ন
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর হত্যাকাণ্ড ঘিরে। তাঁর স্ত্রী ও প্রেমিক মেঘালয়ে তাঁকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অঙ্কাক্ষা স্বরূপ মৃতের এক আত্মীয়কে সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করেছিলেন: “যেহেতু তাঁরা কামাখ্যায় গিয়েছিলেন, যেখানে বলি বা মানব বলি দেওয়ার প্রথা প্রচলিত বলে জানা যায়, আপনারা কি সন্দেহ করছেন এটা কোনও তান্ত্রিক হত্যা হতে পারে?”
এই প্রশ্নটিকেই কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং সাইবার শাখা মামলা রুজু করে। এরপরই এফআইআরটি বাতিলের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন অঙ্কাক্ষা স্বরূপ।
হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
গত ১৫ অক্টোবর বিচারপতি শামিমা জাহান এই মামলার রায় দেন। রায়ে বিচারপতি স্পষ্ট জানান, স্বরূপের মন্তব্যে কোনও ‘দ্বেষ বা শত্রুতার উদ্দেশ্য’ ছিল না। বরং তাঁর বক্তব্য কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য দিক নিয়ে সাংবাদিক অনুসন্ধান হিসেবেই এসেছে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে জানায়, অ্যাঙ্করের মন্তব্যটি অসাবধানতাবশত বলা হলেও, তা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। বিচারপতি বলেন, “সাংবাদিকদের সর্বদা মনে রাখতে হবে, জনসমক্ষে বা সম্প্রচার মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।” তবে যেহেতু স্বরূপের মন্তব্য কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিতে বা উপাসনালয়ে করা হয়নি, তাই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যে ধারাগুলির আওতায় মামলা দায়ের হয়েছিল, তা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে আদালত রায় দেয়।
আইনি মহলে এই রায়কে সাংবাদিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করা অপরাধ নয়, যদি না তার পেছনে কোনও বিদ্বেষ বা উস্কানির উদ্দেশ্য থাকে।