নয়া সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো! ক্লাবগুলির অনুদান নিয়ে কী বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, তারপরেই দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসব। রাজ্যজুড়ে এখন পালাবদলের হাওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, গত ১৫ বছরের পুজোর চেনা ছবি ও জাঁকজমকে কি এবার কোনও পরিবর্তন আসবে? কলকাতার বিগ ব্যানার বা বড় পুজোগুলোতে কি আগের মতো একই কায়দায় উৎসব পালিত হবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কি পুজোর অনুদান দেওয়া হবে? আগামী মাসেই দুর্গাপুজোর সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই খোলাখুলি কিছু বলতে চাননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে পুজো সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয়গুলি দেখভাল করবে। অনুদানের বিষয়টি নিয়ে আগাম কিছু জানানো সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে থেকে কিছু বলা যায় না। সে দিনই সবাই জানতে পারবেন।” ক্ষমতায় আসার পরই গত জুন মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকারি অর্থ যাদের সত্যি প্রয়োজন নেই, তাদের সেই অনুদান দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। তবে যে সমস্ত ছোট ও প্রান্তিক ক্লাব অর্থের অভাবে পুজো করতে সমস্যায় পড়ে, সরকার তাদের পাশেই থাকবে। এই বিষয়ে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো উদ্যোক্তা তথা বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষও। যদিও ছোট পুজো কমিটির কর্তাদের মতে, উৎসব টিকিয়ে রাখতে সরকারি অনুদান তাদের কাছে অত্যন্ত জরুরি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে তৎকালীন সরকার রাজ্যে প্রথম দুর্গাপুজোর আর্থিক অনুদান দেওয়া শুরু করেছিল। শুরুতে অঙ্কটি ক্লাবপিছু ১০ হাজার টাকা থাকলেও ক্রমান্বয়ে তা বাড়িয়ে ২০২৩ সালে ৭০ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৮৫ হাজার টাকায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তা একলাফে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এখন নতুন সরকারের জমানায় এই পুজো অনুদান সংক্রান্ত নীতি কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সমস্ত পুজো উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমের আগে রাজ্যের বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে বিশেষ আশার কথা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত খারাপ রাস্তার গর্তগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। পূর্ত দফতর, পঞ্চায়েত এবং পুরসভাগুলিকে এই রাস্তা সংস্কারের কড়া দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতে যাতে ন্যূনতম কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ত্বরিত পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।