অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে চরম রাজনৈতিক তরজা! মমতার তোপের মুখে কী সাফাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়রম পর্যায়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা বঞ্চনার গুরুতর অভিযোগের তীব্র পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে যোগ্যতা ও মানদণ্ড নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বের শাসনকালের বিভিন্ন নীতি ও নিয়মকে হাতিয়ার করে শাসক শিবিরকে তুলোধোনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গতকাল এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ অভিযোগের পোর্টাল চালু করা হয়েছে। গত ২১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই পোর্টালে এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সমস্ত আবেদন কেবল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির জন্য (Inclusion) আসেনি, বরং একটি বড় অংশ এক্সক্লুশন বা বাদ দেওয়ার দাবি নিয়েও এসেছে। অর্থাৎ, যে সমস্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট নিয়মের যোগ্য নন অথচ সুবিধা ভোগ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েছেন। আগামী ৩১ অগাস্টের পর সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে তা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় রূপান্তরিত হয়েছে। তৃণমূল জমানার মাসিক ভাতার পরিমাণ যেখানে ১৫০০ টাকা ছিল, বিজেপি সরকারের হাতে তা একলাফে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তবে বহু উপভোক্তা নিয়মিত মাসিক ৩ হাজার টাকা না পাওয়ার কারণে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বঞ্চনার অভিযোগ ঘিরেই মূলত প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এর আগে এই প্রসঙ্গে সরব হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার নামে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এক মাস টাকা দিয়ে তিন মাস বন্ধ রাখা হতে পারে এবং রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বর্ণ দেখে এই ভাতার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, তৃণমূল আমলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং প্রয়োজনে নতুন সিস্টেম তৈরি করে এই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
মমতার এই সমস্ত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, বিরোধী শিবির থেকেই বিভিন্ন সময় ইঙ্গিতপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, বরং সম্পূর্ণ নিয়মের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন—তাঁরা হিন্দু হোন কিংবা মুসলিম, কিংবা যে কোনও দলের সমর্থক। নন্দীগ্রামের একটি উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন যে, বিগত দিনে প্রকৃত যোগ্যদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক স্বজনপোষণ করা হয়েছিল। সবমিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনা ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দুই শিবিরের এই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে রাজ্য রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত।