নবান্ন অভিযানে ‘ভয় দেখানোর’ অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা অনড়; কলকাতায় জামতাড়া গ্যাংয়ের বড়সড় প্রতারণা চক্র ফাঁস

যখন রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া আন্দোলনকারীদের ‘ভয় দেখানোর’ অভিযোগ উঠছে, ঠিক তখনই শহর কলকাতা থেকে একটি বৃহৎ আর্থিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস ঘটিয়ে কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই দুটি ঘটনা একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুলছে, তেমনই সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এল।

নবান্ন অভিযানে ‘ভয় দেখানোর’ অভিযোগ:
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের আসন্ন নবান্ন অভিযানকে বানচাল করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে, এই ‘ভয় দেখানো’ সত্ত্বেও তারা তাদের পূর্বঘোষিত নবান্ন অভিযান বাতিল করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আন্দোলনকারী নেতৃত্বদের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলেও সরকার তাদের দমন করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে, তাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলেই তারা জানিয়েছেন। এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

কলকাতায় জামতাড়া গ্যাংয়ের জালিয়াতি চক্র ফাঁস:
অপরদিকে, কলকাতা পুলিশ আর্থিক প্রতারণার এক বৃহৎ চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে জামতাড়া গ্যাংয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা এন্টালি ও লেকটাউনের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই গ্যাংটি ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া থেকে নিজেদের মূল কার্যকলাপ পরিচালনা করত এবং কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তেও তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।

প্রতারকরা একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলত। সেই ভুয়ো ওয়েবসাইটে একটি কাস্টমার কেয়ার নম্বর দেওয়া থাকত। কোনো গ্রাহক যখন অভিযোগ বা সহায়তার জন্য সেই নম্বরে ফোন করতেন, তখন তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফিশিং লিঙ্ক পাঠানো হতো। গ্রাহকরা সেই লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই তাদের মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে যেত এবং মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উধাও হয়ে যেত।

বন্দর এলাকা থেকে দু’জন এবং এন্টালি ও লেকটাউন থেকে আরও দু’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সাইবার ক্রাইম থানা ও গার্ডেনরিচ থানা। এর আগেও কলকাতা পুলিশের তদন্তে বহুবার জামতাড়া গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। এই জামতাড়া গ্যাং যে সক্রিয় ছিল, সেই বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। এবার জানা গিয়েছে, কলকাতা এবং জামতাড়া উভয় স্থান থেকেই প্রতারকরা এই চক্র চালাচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া চারজন ছাড়াও এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত জোর কদমে চলছে।

এই দুটি পৃথক ঘটনা একই দিনে প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানানোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই সাইবার অপরাধীদের নিত্যনতুন ফাঁদ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য ডিজিটাল সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পুলিশ উভয় ক্ষেত্রেই নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy