নবরাত্রি গরবায় কঠোর নিয়ম নাগপুরে, আধার কার্ড বাধ্যতামূলক, তিলক-ঐতিহ্যবাহী পোশাক ছাড়া প্রবেশ নিষেধ!

ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নবরাত্রি উৎসবের সময় ঐতিহ্যবাহী গরবা নৃত্যে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশিকাগুলি শুধুমাত্র প্রকৃত ভক্তদের উৎসবে যোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
কী কী নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে?
নাগপুরের স্থানীয় প্রশাসন এবং ভিএইচপি (VHP)-র মতো ধর্মীয় সংগঠনগুলির সমন্বয়ে এই নতুন বিধিগুলি কার্যকর করা হচ্ছে:
আধার কার্ড বাধ্যতামূলক: গরবা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইচ্ছুক প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে তাদের আধার কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। এটি পরিচয় যাচাইকরণের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের প্রবেশ রোধ করবে।
তিলক ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক: অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে পুরুষদের কপালে তিলক পরা এবং মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা বাধ্যতামূলক।
বরাহ অবতারের সামনে প্রণাম: অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে সকলকে ভগবান বিষ্ণুর বরাহ অবতারের সামনে মাথা নত করে প্রণাম জানাতে হবে। এই প্রথাটি ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং ভক্তি প্রদর্শনের জন্য চালু করা হয়েছে।
ভিএইচপির এক মুখপাত্র জানান, “আমরা গরবা মণ্ডপগুলিতে একটি শান্তিপূর্ণ এবং ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কর্মীরা নজর রাখবে যাতে কোনও বহিরাগত বা অ-হিন্দু ব্যক্তি মণ্ডপে প্রবেশ করে উৎসবের পবিত্রতা নষ্ট না করে।”
ভিএইচপি-র স্বেচ্ছাসেবক ও বিতর্কিত প্রস্তাব
ভিএইচপি-র বিদর্ভ সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত তিত্রে পূর্বে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উপর ‘গোমূত্র’ বা গরুর মূত্র ছিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের হাতে ‘রাখশা সূত্র’ বেঁধে দেওয়া হবে।
ভিএইচপি এবং বজরং দলের কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং মহিলাদের সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দেবে।
জনসাধারণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই কঠোর উদ্যোগ নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একদল মানুষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে সমাজের সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, অনেকেই এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং এর সমালোচনা করছেন।
তবে, ভিএইচপি তাদের সিদ্ধান্তে অটল এবং জানিয়েছে যে তারা প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে যাতে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এই বছর নবরাত্রি উৎসব আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে এবং তাই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।