নবমীর আরতির শব্দে ঢাকা পড়ল গুলির আওয়াজ! চম্বলে বাবার হাতেই খুন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী, কুনওয়ারী নদীতে মিলল দেহ!

নবরাত্রির উৎসবের মাঝেও এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত মধ্যপ্রদেশের চম্বল-গোয়ালিয়র অঞ্চল। দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিজের বাবার হাতেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হতে হলো। ১৭ বছর বয়সী কন্যা দিব্যা সিকারওয়ারকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর বাবা ভরত সিকারওয়ার এবং মাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সামাজিক নিয়ম বা জাতিভেদের নামে পরিবারগুলো কতটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।

যেভাবে খুন ও দেহ লোপাট
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিব্যাকে তাঁর বাড়িতেই গুলি করে খুন করা হয়। পাঁচদিন পর কুনওয়ারী নদী থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়, যা প্লাস্টিকে মোড়ানো এবং পাথরের সঙ্গে বাঁধা ছিল— প্রমাণ লোপাটের একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা।

অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সুরেন্দ্র পাল সিং দাবর জানান, ভরত পরিকল্পিতভাবে তাঁর মেয়েকে খুন করেছেন। তিনি সন্ধ্যার আরতির সময়েই গুলি চালান, যখন বাড়ির বাইরে লাউডস্পিকারে ভক্তিমূলক গান বাজছিল। গান ও আরতির শব্দে গুলির শব্দ বাইরে পৌঁছায়নি। কেবল দিব্যার ছোট বোন, যিনি চিৎকার করে বাইরে দৌড়ে যান, তিনি এই নৃশংস ঘটনার সাক্ষী।

তদন্তের জাল: ২৩ জন সন্দেহের তালিকায়
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ভরত সিকারওয়ার ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, এই খুনের ঘটনা ও দেহ লোপাটের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও ২৩ জনকে তদন্তের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনের নাম চিহ্নিত। এই সহযোগীরা পুলিশকে না জানিয়ে দেহ লোপাট করতে সাহায্য করেছিল।

হত্যার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র, একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার, ইতিমধ্যেই উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, দিব্যার মাথায় একদম কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল।

খুনের পর দেহ লোপাট করতে বেরোনোর সময় ভরত প্রতিবেশীদের মুখোমুখি হন এবং প্রথমে দাবি করেন, দিব্যার মাথায় চোট লেগেছে। পরে তিনি বলেন, দিব্যা আত্মহত্যা করেছেন।

বর্তমানে অভিযুক্ত বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই শিক্ষিত পরিবার এত নৃশংসভাবে কন্যাকে খুন করল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, সামাজিক নিয়ম বা জাতিগত বিধিনিষেধ এর নেপথ্যে মূল কারণ হতে পারে।