নববধূর ওপর নারকীয় অত্যাচার, পণের দাবিতে ঘরে সাপ ছেড়ে দিলো শ্বশুরবাড়ির লোকজন! তারপরের ঘটনা আরও ভয়ঙ্কর

পণের দাবিতে এক নববধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। টাকার জন্য তারা ঘরে আটকে রেখে ওই তরুণীর সঙ্গে যে বীভৎস কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা শুনলে গা শিউরে ওঠে। অভিযোগ, ঘরে একটি সাপ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যা ওই তরুণীকে কামড় দিলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের কর্নেলগঞ্জে।
নির্যাতিতা রেশমার দিদি রিজওয়ানা জানান, চলতি বছরের ১৯ মার্চ শাহনাওয়াজের সঙ্গে রেশমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই শাহনাওয়াজের পরিবার ৫ লাখ টাকা পণ দাবি করে। রেশমার পরিবার কিছু টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে পারছিল না। এর জেরে শ্বশুরবাড়িতে রেশমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সেই অত্যাচার চরমে ওঠে। পণের বাকি টাকার জন্য রেশমাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।
রিজওয়ানা জানান, রেশমাকে শাস্তি দিতে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরের ড্রেন দিয়ে একটি সাপ ঢুকিয়ে দেয়। ভয়ে রেশমা চিৎকার করতে থাকলেও বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে হাসাহাসি করতে থাকে স্বামী শাহনাওয়াজ ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। গভীর রাতে সাপটি রেশমার পায়ে কামড় দেয়। যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও কেউ দরজা খোলেনি।
কোনোমতে রেশমা তার দিদি রিজওয়ানাকে ফোন করেন। রিজওয়ানা দ্রুত এসে দেখেন, তার বোন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঘরের ভেতর পড়ে আছে। দেরি না করে তিনি রেশমাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
রিজওয়ানার অভিযোগের ভিত্তিতে, পুলিশ রেশমার স্বামী শাহনাওয়াজ, তার বাবা-মা, বড় ভাই, বোন এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।