নন্দীগ্রামে ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মাদ্রাসার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-সিপিএমের মধ্যে উত্তেজনা

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে আবারও রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। গুমগড় হাই মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সিপিএমের একাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। সিপিএমের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে।

সোমবার নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের দাউদপুর এলাকার গুমগড় হাই মাদ্রাসার নির্বাচন কমিটির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। সিপিএমের দাবি, দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের পথ আটকায় এবং হকিস্টিক দিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় সিপিএমের নন্দীগ্রাম এরিয়া কমিটির সম্পাদক মহাদেব ভুঁইয়ার হাত ভেঙে যায়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন সিপিএম কর্মী জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সিপিএম কর্মীরা নন্দীগ্রাম থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। মহাদেব ভুঁইয়া বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলাম। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও কোনো নিরাপত্তা ছিল না। আমরা এই বর্বরোচিত আক্রমণের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সিপিএম এখন রাজনীতিতে অস্তিত্বহীন। তাদের কাছে কোনো সমর্থক, প্রস্তাবক বা প্রার্থী নেই। তারা শুধু মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করছে।”

এই ঘটনার পর নন্দীগ্রাম এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। আগামী ৩১শে আগস্ট এই মাদ্রাসার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এই ধরনের সংঘর্ষ এলাকায় আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।