“নন্দীগ্রামের পথেই হাঁটবে ভবানীপুর!” মমতার গড়ে দাঁড়িয়েই হারের ভবিষ্যৎবাণী মোদির

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে এবার ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতার হারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এবার ভবানীপুরের মানুষও একই ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে। মোদির এই সরাসরি আক্রমণ বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ ও মোদির খোঁচা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে নিজের প্রাক্তন সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও পরে উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখেন। সেই হারের ক্ষতে প্রলেপ পড়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামের সচেতন মানুষ যে পরিবর্তন শুরু করেছিলেন, এবার ভবানীপুর সেই কাজ পূর্ণ করবে। বাংলার মানুষ দিদির অপশাসন থেকে মুক্তি চায়।”

কেন ভবানীপুরকে পাখির চোখ বিজেপির? রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর এবার কেবল একটি আসন নয়, বরং এটি সম্মানের লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে এবার শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করে বিজেপি লড়াইকে ‘ফাইনাল’ ম্যাচে পরিণত করেছে। মোদি এদিন দাবি করেন, ভবানীপুরের জনবিন্যাস এবং মানুষের মেজাজ বলছে যে, এবার আর ঘরের মেয়ে বলে পার পাওয়া যাবে না।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব: প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, ভবানীপুরের মানুষ ঘরের মেয়েকেই ভালোবাসেন। মোদি যতই ভয় দেখান না কেন, গতবারের উপনির্বাচনের মতো এবারও বিপুল ব্যবধানে জিতে বিরোধী শিবিরের মুখ বন্ধ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লড়াই যখন ব্যক্তিগত: মমতা বনাম শুভেন্দু— এই দ্বৈরথকে মোদি যেভাবে নন্দীগ্রামের পরাজয়ের সাথে মেলালেন, তাতে পরিষ্কার যে বিজেপি এবার মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না। আগামী ২৩ এপ্রিল ভবানীপুরের ভোটগ্রহণ। তার আগে মোদির এই ‘নন্দীগ্রাম কার্ড’ ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

তিলোত্তমার এই প্রেস্টিজ ফাইট নিয়ে আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান আমাদের।