নজির গড়ল নদিয়া-মুর্শিদাবাদ! উমিদ পোর্টালে ৯২% ওয়াকফ সম্পত্তি আপলোড, অবশেষে আতঙ্ক কাটল

ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তিকরণকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যজুড়ে চলা জল্পনা ও উৎকণ্ঠার মধ্যেই বড় সাফল্য দেখাল দুই জেলা—নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ। কেন্দ্রের নতুন ‘উমিদ’ পোর্টালে (UMID Portal) দ্রুত গতিতে ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য আপলোড করে নজির সৃষ্টি করেছে এই দুই জেলা। জনমনে তৈরি হওয়া ভয় ও আতঙ্ক দূর করতে বুধবার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে নবান্ন।

নদিয়া–মুর্শিদাবাদে সাফল্যের নজির

রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড সূত্রে খবর, দ্রুতগতিতে তথ্য আপলোডের নিরিখে রাজ্যে শীর্ষে রয়েছে নদিয়া। এই জেলায় মোট ১১৯৯টি ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে ১১০২টির তথ্য ইতিমধ্যে আপলোড করা হয়ে গেছে, যা সাফল্যের নিরিখে প্রায় ৯২%। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এখানকার মোট ৪৪৮৬টি সম্পত্তির মধ্যে ৩৪৭১টির এন্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে, সাফল্যের হার ৭৭.৩৭%। সূত্র অনুযায়ী, মালদহ এবং হাওড়াতেও প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলিতেও ব্লক ও জেলা স্তরে হেল্প ডেস্ক খুলে পঞ্জিকরণের কাজ দ্রুত চলছে। এই দ্রুত পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো—সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই রাজ্যে ১০০% ডিজিটাল ওয়াকফ পঞ্জিকরণ সম্পন্ন করা।

জমি সংক্রান্ত গুজব সম্পূর্ণ ভুল, জানাল নবান্ন

নতুন পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করলে ওয়াকফ সম্পত্তি কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এই নিয়ে নবান্ন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, রাজ্যে প্রায় ৮ হাজার ওয়াকফ এস্টেট এবং ৮২ হাজার সম্পত্তির তথ্য আগেই কেন্দ্রের পুরনো WAMSI পোর্টালে নথিভুক্ত ছিল। এতদিন তথ্য দিত রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড, এখন শুধুমাত্র ‘উমিদ’ পোর্টালে মুতওয়াল্লিরাই তথ্য দেবেন। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এইটাই একমাত্র পরিবর্তন। এর সাথে জমি হারানো বা সম্পত্তি কেন্দ্রের দখলে চলে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ছড়িয়ে পড়া সমস্ত গুজবই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

৫ ডিসেম্বরের শেষ সময়সীমা নিয়ে অনেকের মনে আতঙ্ক থাকলেও রাজ্য সরকার আশ্বস্ত করেছে। জানানো হয়েছে, কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারা মানুষদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল চাইলে আইন মেনে আরও ৬ মাসের জন্য সময়সীমা বাড়াতে পারে। অর্থাৎ, এখনই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।

এছাড়া, মসজিদ ও কবরস্থানের জমি ‘কালেক্টরের খতিয়ান নম্বর ১’-এ নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলে যে দাবি কিছু মহল থেকে তোলা হচ্ছিল, নবান্ন তারও জবাব দিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এটি বহু পুরনো ভূমি সংস্কার আইনের একটি বিষয়। জমিদার বা বড় রায়তরা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে জমি দান করলে তা এই খতিয়ানে নথিভুক্ত হত। বর্তমান ওয়াকফ পঞ্জিকরণের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্য সরকার কখনোই এতে হস্তক্ষেপ করেনি।

নবান্ন থেকে এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেছেন, “নদিয়া–মুর্শিদাবাদ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে মানুষ সরকারের ওপর ভরসা রেখেছেন। গুজবে কান না দিয়ে নিশ্চিন্তে কাজ করুন। রাজ্য সরকার সব সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”