গর্ভাবস্থায় ওজন কমানো কি সত্যিই স্বাভাবিক? চিকিৎসকদের যে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানলে চমকে যাবেন!

মাতৃত্ব প্রতিটি নারীর জীবনে এক পরম ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা, তবে এই ন’মাসের সময়কাল জুড়ে হবু মায়েদের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগের শেষ থাকে না। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও জটিল একটি প্রশ্ন হলো—গর্ভাবস্থায় ওজন কমানো কি আদৌ স্বাভাবিক, নাকি এটি কোনো গভীর শারীরিক জটিলতার লক্ষণ? সাধারণত গর্ভাবস্থায় নারীদের ওজন বৃদ্ধি হওয়াই স্বাভাবিক এবং কাঙ্ক্ষিত বলে ধরে নেওয়া হয়, কারণ এই সময়ে গর্ভস্থ ভ্রূণ, প্লাসেন্টা এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের বর্ধিত ওজনের কারণে শরীরের ভর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু চিকিৎসা গবেষণা এবং বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সময়জুড়ে ওজন হ্রাস পাওয়ার ঘটনাও সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে তা নির্ভর করে হবু মায়ের প্রারম্ভিক শারীরিক গঠনের ওপর।

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে অনেক নারীই মর্নিং সিকনেস, বমি বমি ভাব, তীব্র বমি এবং খাবারের প্রতি তীব্র অনীহার মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার কারণে অনেক হবু মা পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারেন না, যার ফলে অজান্তেই তাদের শরীরের ওজন সামান্য হ্রাস পেতে পারে। চিকিৎসকদের একটি বড় অংশের মতে, যদি কোনো নারী গর্ভধারণের পূর্বে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার হয়ে থাকেন, তবে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সামান্য ওজন কমা বা স্থির থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এতে গর্ভস্থ সন্তানের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। শরীরের প্রাকৃতিক মেটাবলিজম এবং হরমোনের পরিবর্তন এই প্রক্রিয়ার পেছনে সরাসরি কাজ করে থাকে।

তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিস্থিতি সবসময় এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যদি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের পর অর্থাৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকেও ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে এবং তা যদি কোনো পুষ্টির ঘাটতি বা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ঘটে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অপুষ্টি, জেসটেশনাল ডায়াবেটিস বা অন্যান্য জটিল অভ্যন্তরীণ রোগ থাকলে ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং সময়ের আগেই শিশুর জন্ম বা কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি হবু মায়ের উচিত নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে নিজের ও অনাগত সন্তানের সঠিক ওজন বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা মাত্রই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা।