নজিরবিহীন শিশু পাচার চক্র ফাঁস! এক ডাক্তারসহ ১০ জন গ্রেপ্তার, ১.৮ লাখ থেকে ৭.৫ লাখে বিক্রি হতো শিশু

দিল্লি ও উত্তর ভারতে সক্রিয় এক বিরাট শিশু পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় একজন চিকিৎসকসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৬টি শিশুকে। চক্রটি অসহায় পরিবার থেকে শিশুদের অপহরণ করে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে ১.৮ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা সুন্দর (৩৫) নামে একজন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। তিনি শিশু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আগ্রার ড. কমলেশ কুমার (৩৩), যিনি গর্ভপাত করাতে না পারা গর্ভবতী মায়েদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ডেলিভারির পর তাদের শিশুদের বিক্রি করে দিতেন। পুলিশ ছদ্মবেশে তার চেম্বারে ঢুকে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
গত ২২ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার এক শ্রমিক সুরেশ তার ছয় মাসের শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দিল্লির আইএসবিটি-এর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দু’জনকে চিহ্নিত করে। মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে প্রথমে বীরভান (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরার মুখে সে জানায়, রামবারণ নামে একজনের নির্দেশে তার শ্বশুর কালিচরণের সঙ্গে মিলে শিশুটিকে অপহরণ করে কমলেশের কাছে বিক্রি করেছে। এরপরই পুলিশ ডাক্তার কমলেশকে গ্রেপ্তার করে।
কমলেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুন্দরকে গ্রেপ্তার করে। সুন্দরের তথ্যে কৃষ্ণ (২৮) ও প্রীতি (৩০) নামে দুই বোনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, এই দুই বোন আরও একটি শিশুকে উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালের এক দম্পতির কাছে বিক্রি করেছিল। পুলিশ সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
পরে রিতু, জ্যোৎস্না ও নিখিল নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আরও তিনটি শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে একটির বয়স মাত্র দুই মাস এবং আরেকটির বয়স এক বছর।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং উত্তরাখণ্ড জুড়ে সক্রিয় ছিল। তারা মূলত বাসস্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনে ঘুরে বেড়ানো অসহায় পরিবারগুলোকে টার্গেট করত। এই চক্রের আরও সদস্যদের খোঁজে তদন্ত চলছে। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে একটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৫টি শিশুকে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।