সোশ্যাল মিডিয়া যেমন রাতারাতি কাউকে তারকা বানিয়ে দেয়, তেমনই আবার ভুল পথে পা বাড়ালে আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলতেও সময় নেয় না। সম্প্রতি ঠিক এমনটাই ঘটল জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার অরুণ পানওয়ারের সঙ্গে। ২০২৫-এর শেষের দিকে জমকালো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিয়ের একটি ভিডিও হঠাৎ করেই নেটপাড়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নগদ ৭১ লক্ষ টাকা এবং ২১ তোলা সোনা হাতে তুলে নিচ্ছেন অরুণ। আর এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক।
ইউটিউবার অরুণের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং সোনা তিনি কোনো ‘পণ’ হিসেবে নেননি, বরং এটি তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে দেওয়া ‘দান’। কিন্তু নেটিজেনরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। ভারতের ‘যৌতুক বিরোধী আইন ১৯৬১’ (Dowry Prohibition Act) অনুযায়ী পণ নেওয়া এবং দেওয়া দুই-ই দণ্ডনীয় অপরাধ। সেখানে একজন প্রভাবশালীর এমন আচরণ সমাজের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। ২.৪ মিলিয়নের বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকা অরুণ পানওয়ার নিজেই জানিয়েছেন যে তাঁর মাসিক আয় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। প্রশ্ন উঠছে, যার আয় এত বেশি, তাঁকে কেন বিয়ের সময় বিপুল ‘দান’ নিতে হবে?
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই অরুণের ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল সমালোচনায় ভরে গিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, “একুশ শতকে দাঁড়িয়েও শিক্ষিত হয়ে এই মানসিকতা দুর্ভাগ্যজনক।” কেউ আবার বলছেন, “দান তো ছোটখাটো হয়, কোটি টাকার কাছাকাছি সম্পদকে দান বলা মানে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানো।” যদিও এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত অরুণ বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ভারতের মতো দেশে যেখানে আজও পণের দাবিতে নারীদের নির্যাতনের খবর শিরোনামে আসে, সেখানে একজন পাবলিক ফিগারের এমন কাণ্ড জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।