“নকল সূর্য প্রায় তৈরি?”-চিনের তৈরি মেগা ম্যাগনেট দেখে ঘুম উড়েছে বিশ্বের!

নকল সূর্য তৈরির জল্পনা গত ৬-৭ বছর ধরে চলছে। তবে এবার এই প্রকল্পে এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল চিন। কৃত্রিম সূর্য তৈরি এবং তা থেকে বাণিজ্যিক উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপাদান— একটি বৃহদাকার সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট সফলভাবে তৈরি করে ফেলল বেজিং। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ম্যাগনেট তৈরিকে ফিউশন শক্তির ইতিহাসে অত্যন্ত বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
কে তৈরি করল এই ম্যাগনেট?
চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর আওতায় থাকা ইনস্টিটিউট অফ প্লাজমা ফিজিক্স (IPP) এই বিশাল ম্যাগনেটটি তৈরি করেছে। বিশাল ডি-আকৃতির (D-shaped) এই ম্যাগনেটটির দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, প্রস্থ ১২ মিটার এবং এর ওজন প্রায় ৫৮২ টন।
‘কৃত্রিম সূর্য’ জিনিসটি আসলে কী?
‘কৃত্রিম সূর্য’ হলো মূলত একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর, যেখানে সূর্যের অভ্যন্তরে ঘটে চলা শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াকেই কৃত্রিমভাবে অনুকরণ করা হয়।
এই প্রযুক্তিতে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর সংযোজন (Fusion) ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও ক্ষতিকারক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় না। ফলে ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও অন্তহীন শক্তির উৎস হিসেবে ফিউশন টেকনোলজিকে অন্যতম সেরা বিকল্প মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
কীভাবে কাজ করবে এই বিশাল ম্যাগনেট?
গবেষকদের দাবি, এটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে তৈরি হওয়া ফিউশন রিঅ্যাক্টরের সবচেয়ে বড় সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট।
এই ম্যাগনেটের মূল কাজ হলো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি করা।
এর সাহায্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অতি উত্তপ্ত প্লাজমাকে রিঅ্যাক্টরের ঠিক মাঝখানে আটকে রাখা হবে, যাতে তা রিঅ্যাক্টরের দেওয়ালের সংস্পর্শে এসে গলে না যায়।
合肥核聚变项目,目前已进入聚变能开发应用“三步走”战略中的第一步,2022年至2035年,完成聚变能实验堆发电示范,2030年至2040年,完成聚变工程堆发电示范,2040年至2050年,完成聚变商业堆商业应用。 https://t.co/rYQA19f8vi pic.twitter.com/YqfX23lJjE
— 小陆师傅 (@STANLEES4) March 16, 2025
২০৩০ সালের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা চিনের
চিনের এই ফিউশন গবেষণা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন গতি পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই চিনের ‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত Experimental Advanced Superconducting Tokamak (EAST) ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টানা ১,০৬৬ সেকেন্ড প্লাজমা ধরে রেখে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।
বাণিজ্যিক ফিউশন শক্তি উৎপাদনের জন্য তিন ধাপের রোডম্যাপ তৈরি করেছে চিন: ১. ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে: ‘Burning Plasma Experimental Superconducting Tokamak’ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২. ২০৩০ সালের মধ্যে: ফিউশন প্রযুক্তি থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রথমবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বেজিং। ৩. ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: ‘China Fusion Engineering Demonstration Reactor’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যা বিশ্বের প্রথম ফিউশন-ভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে পারে।