ধ্বংস হয়ে গেছে ইরানের সামরিক শক্তি! ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করে ট্রাম্প দিলেন চরম সতর্কতা

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটাভুটির ময়দান চাঙ্গা করতে ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি ও জোরালো আহ্বান জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনকে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা যেন এমনভাবে ভোটকেন্দ্রে অংশ নেন, যেন মনে হয় এই নির্বাচনে তিনি নিজেই পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে সরাসরি নেমেছেন। ফক্স নিউজের জনপ্রিয় সঞ্চালক শন হ্যানিটির (Sean Hannity) সঙ্গে এক শেষ মুহূর্তের বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রিপাবলিকানদের পক্ষে ব্যাপক ভোটদানের আর্জি জানান। তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, যদি রিপাবলিকানরা এই নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না করে, তবে তাঁর সমস্ত আইন প্রণয়নের মূল এজেন্ডা এবং বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলি মারাত্মক বিপদের মুখে পড়েবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত কাজের সময়ের পারিশ্রমিক (ওভারটাইম পে), সোশ্যাল সিকিউরিটি করছাড় এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলি তুলেই তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন। ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘‘আমাদের সমর্থকরা যদি পূর্ণ শক্তিতে ভোট দেন, তবে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনব।’’ সাক্ষাৎকারপ্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তাঁর দাবি, এই বিধ্বংসী অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে গেছে। ইরানের নৌবাহিনী, যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা জুড়ে ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ বিশাল বিনিয়োগ আসছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে আমদানি শুল্ক ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। এদিকে, এই মধ্যবর্তী নির্বাচন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এক প্রকার অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সেনেটের উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের আসন বাড়াতে মরিয়া। এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি ও কার্যক্রমের উপর একটি প্রত্যক্ষ গণভোট হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলি ভোটারদের মনে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের পরাজয় ঘটলে তা ট্রাম্পের শাসনকালে বড় ধাক্কা হয়ে আসবে। অন্যদিকে, নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের একটি জরুরি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো রকম অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই আদালত সেই আবেদন খারিজ করায় হোয়াইট হাউসের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে, মঙ্গলবারের এই বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।