ব্যাডমিন্টনে নতুন নিয়মে চরম বিশৃঙ্খলা! পিভি সিন্ধুর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব ক্রীড়ামহল

বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সার্কিটে বর্তমানে শট ক্লক নিয়ে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ব্যাডমিন্টনের নিয়মে নতুন সংযোজিত ২৫ সেকেন্ডের ‘শট ক্লক’ (Shot Clock) বা সময়সীমার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ দেশের তারকা শাটলার তথা দ্বিমুঠো অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু। বুধবার এক ভার্চুয়াল কথোপকথনে সিন্ধু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বিশ্ব ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের (BWF) এই নতুন নিয়মের ন্যায্যভা ও স্বচ্ছতা নিয়ে শুধু তিনি একা নন, বরং বহু শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। এই জটিল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে খুব শীঘ্রই এই ব্যবস্থার কঠোর ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

চলতি বছরে বিসিডব্লিউএফ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের কিছু নির্দিষ্ট ও বাছাই করা টুর্নামেন্টে পরীক্ষামূলকভাবে এই ‘শট ক্লক’ নিয়মটি চালু করা হয়েছিল। এই নিয়মের মূল বিধান অনুযায়ী, কোর্টে একটি র‍্যালি শেষ হওয়ার ঠিক পর পরবর্তী সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত হতে খেলোয়াড়রা মাত্র ২৫ সেকেন্ডের সময়সীমা হাতে পান। কিন্তু এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মাঠের অন্দরে নানান বিভ্রান্তি এবং নিয়মের কড়াকড়ি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।

এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে পিভি সিন্ধু বলেন, ‘‘গত কয়েক মাসে এই নিয়মের জেরে কোর্টে আমরা প্রচুর ওঠানামা ও বিভ্রান্তি দেখতে পেয়েছি। অনেক খেলোয়াড়ের কাছেই এই নিয়মটি এখনও অত্যন্ত নতুন এবং অদ্ভুত ঠেকছে। তাছাড়া, অনেক সময় ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কিছু অাম্পায়ার অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন। যার ফলে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই হলুদ কার্ড কিংবা লাল কার্ড দেখানোর মতো ঘটনা আকছার ঘটছে, যা ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নষ্ট করছে।’’

সিন্ধু আরও যোগ করেন, ‘‘অবশ্য ধীরে ধীরে আমরাও এই ২৫ সেকেন্ডের শট ক্লকের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এ পর্যন্ত মোট সাতটি টুর্নামেন্টে এটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং আগের তুলনায় কিছুটা হলেও উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সমস্যা হলো, এই নিয়মটি সঠিকভাবে বোঝা এবং মেনে চলা একপ্রকার কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অ্যাম্পায়ার ও খেলোয়াড় উভয়ের পক্ষ থেকেই এটি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক সময় দেখা যায় যে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় প্রস্তুত হয়ে গেছেন, কিন্তু সার্ভার বা যিনি সার্ভিস করবেন তিনি প্রস্তুত নন। আবার ঠিক এর উলটো ঘটনাও ঘটে চলেছে। এই টাইমিংয়ের গরমিলের কারণে মাঠে অহেতुक উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।’’

খেলোয়াড়দের এই সমস্যা ও বিভ্রান্তির কথা বলতে গিয়ে সিন্ধু জানান, ‘‘এই নতুন টাইম লিমিটের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগাই স্বাভাবিক। অনেক সময় ঘড়িতে যখন মাত্র পাঁচ বা সাত সেকেন্ড বাকি থাকে, তখন অ্যাম্পায়ার এসে তাড়া দিয়ে বলেন যে আপনার প্রতিপক্ষ তো তৈরি, আপনি কেন দেরি করছেন? অথচ তখনও সার্ভিসের জন্য সাত সেকেন্ড সময় হাতে থাকে। এই বিষয়গুলো নিয়ে খেলোয়াড় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।’’

উল্লেখ্য, বিসিডব্লিউএফ (BWF) খেলোয়াড় কমিশনের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিভি সিন্ধু। তিনি জানান যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক খেলোয়াড় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এই নিয়ম নিয়ে তাঁদের নানান ভয় ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিজেই বডি ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। সিন্ধুর সাফ কথা, খেলোয়াড়দের মতামত এবং তাঁদের সমস্যাগুলোকে নজরে রেখেই এই ব্যবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আরও বলেন, ‘‘বিডব্লিউএফের খেলোয়াড় কমিশনের প্রধান হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি এবং অ্যাথলেটদের সঠিক মতামত যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি। আমি স্বচক্ষে দেখেছি যে বর্তমান সময়ে অ্যাম্পায়াররাও বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছেন এবং এই নিয়মটি যাতে আরও সঠিকভাবে ও স্বচ্ছভাবে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে তাঁরা নজর দিচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে এই জটিলতা কেটে যাবে।’’