১ ডিসেম্বর থেকে অচল হবে দিল্লি! ১ লাখের বেশি শ্রমিকের মেগা ধর্মঘট, স্তব্ধ হতে পারে রাজধানী!

আসন্ন ডিসেম্বরের শুরুতেই ফের একবার বড়সড় আন্দোলনের সাক্ষী হতে চলেছে দেশের রাজধানী। অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং একাধিক দাবিপূরণের লক্ষ্যে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধতা ও প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন ‘সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস’ (CITU)। ১ লাখেরও বেশি শ্রমিকের এই বিশাল জমায়েতের জেরে দিল্লিতে চরম যানজট ও প্রশাসনিক অস্বস্তি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কী কী দাবিতে গর্জে উঠছেন শ্রমিকরা?
সিআইটিইউ-এর (CITU) স্পষ্ট বার্তা— বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে শ্রমজীবী মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এই জাতীয় স্তরের আন্দোলনের ডাক। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
ন্যূনতম মজুরি ও পেনশন: অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য প্রতি মাসে ন্যূনতম ৪২,০০০ টাকা মজুরি এবং অবসরের পর প্রতি মাসে ২১,০০০ টাকা পেনশন নিশ্চিত করা।
শ্রম কোড বাতিল: কেন্দ্রের বর্তমান শ্রম নীতি ও শ্রম কোডগুলিকে শ্রমিকবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি।
স্কিম শ্রমিকদের স্বীকৃতি: অঙ্গনওয়াড়ি, আশাকর্মী সহ স্কিম কর্মীদের সরকারি শ্রমিকের স্বীকৃতি ও সব সাংবিধানিক সুবিধা প্রদান।
সামাজিক সুরক্ষা ও স্থায়ীকরণ: সমান কাজের জন্য সমান মজুরি, চুক্তিভিত্তিক কাজের অবসান ঘটানো, কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শূন্যপদগুলি অবিলম্বে পূরণ করা।
অন্যান্য প্রশাসনিক দাবি: জল-জমি-জঙ্গলের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলসহ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি।
৪০ হাজার ট্রেনের টিকিট বুকড! দেশজুড়ে ‘দিল্লি চলো’র জোর প্রস্তুতি
এই মেগা আন্দোলন সফল করতে দেশজুড়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিআইটিইউ-এর কর্ণাটক ইউনিটের সভাপতি এস. বরলক্ষ্মী জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কর্ণাটক থেকেই দিল্লিতে পৌঁছানোর জন্য ইতিমধ্যেই ৪০ হাজারের বেশি ট্রেনের টিকিট কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকেও কাতারে কাতারে শ্রমিক ১ ডিসেম্বরের আগেই রাজধানীতে পৌঁছতে শুরু করবেন।
সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, সংসারের খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ৪২ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অধিকার।
প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ
১ লাখেরও বেশি মানুষের এই ঐতিহাসিক সমাবেশের খবর মিলতেই তৎপরতা শুরু হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র শাসিত প্রশাসনের অন্দরে। বিগত দিনগুলির অভিজ্ঞতা থেকে জন্তর মন্তর ও সংলগ্ন সীমানা এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের আগাম ছক কষা হচ্ছে।
সিআইটিইউ নেতৃত্বের হুঙ্কার— আন্দোলন পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হলেও, সরকার দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত দিল্লির বুক থেকে এই ধর্মঘট ও প্রতিবাদ প্রত্যাহার করা হবে না।