“এক বছরও টিকবে না মোদী-শাহের সরকার!” পাঞ্জাবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ রাহুলের!

আসন্ন ২০২৭ পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের সলতে পাকানো শুরু হতেই আম আদমি পার্টি (AAP) এবং তাদের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে অল-আউট অ্যাটাকে নামলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সাংরুরে আয়োজিত বিশাল ‘ইনসাফ র‍্যালি’-র মঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতার এই চরম শানিত বাণে তোলপাড় গোটা রাজ্য রাজনীতি।

পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘আপ’ ক্ষমতায় এসেছিল দাবি করে রাহুল অভিযোগ করেন, মাদক নির্মূল করা তো দূর—রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তো রাতদিন নেশায় ডুবে থাকেন!

“মদ্যপান উনার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু…” মান-কে বেনজির কটাক্ষ রাহুলের

লোকসভার অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন,

“আমি যখন লোকসভায় উনার সাথে বসতাম, তখন সকাল ১১টার মধ্যেই উনার মুখ থেকে মদের তীব্র গন্ধ পাওয়া যেত! আমি বলছি না যে উনি মদ খাবেন না, সেটা উনার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই রাজ্যকে মাদকমুক্ত করতে চান, তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নেশায় ডুবে থাকতে পারেন না। পাঞ্জাবের দরকার এমন এক নেতা, যে এই নেশার ভয়াবহ যন্ত্রণাটা বুঝবে।”

“শাহ আর কেজরিওয়ালের হাতের পুতুল মুখ্যমন্ত্রী!”

পাঞ্জাবের বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী আসলে কেবল নামমাত্র পদে বসে রয়েছেন।

  • দিল্লির রিমোট কন্ট্রোল: “বর্তমানে পাঞ্জাবের ক্ষমতার অর্ধেক রিমোট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে, আর বাকি অর্ধেক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পকেটে। মান তো স্রেফ দর্শকের মতো বসে রয়েছেন! দিল্লি থেকে আর পাঞ্জাব চালানো যাবে না।”

  • কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া চ্যালেঞ্জ: তিন বছরের মধ্যে মাদক দূর করার কেন্দ্রীয় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে রাহুল বলেন, “অমিত শাহ তিন বছরের সময়সীমা দিচ্ছেন! আমার স্পষ্ট মনে হয় কেন্দ্র সরকারের বয়স আর এক বছরও নয়। তিন বছর পর অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদেই থাকবেন না।”

শিল্প ও কর্মসংস্থানই একমাত্র পথ

রাহুল স্মরণ করিয়ে দেন, বহুবছর আগেই তিনি প্রথম পাঞ্জাবে মাদকের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, যা তখন বিজেপি বা অকালি দল উড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি সাফ জানান, যুবসমাজকে কলকারখানা, চাকরি ও শক্তিশালী কৃষিব্যবস্থার যোগান না দিলে কেবল পুলিসি কড়াকড়ি দিয়ে মাদক ও গ্যাংস্টার কালচার রোখা সম্ভব নয়।

২০২২ সালের নির্বাচনে ১১৭টি আসনের মধ্যে ৯২টিতে জিতেছিল আপ, আর কংগ্রেস মাত্র ১৮টি আসনেই থমকে গিয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক কৌশল যে আপ-কে চরম ব্যাকফুটে ঠেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।