ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন! নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুই কর্মীকে উদ্ধার করে তাক লাগাল সেনা!

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ভয়াল তাণ্ডবের দীর্ঘ ৯ দিন বা ২১৬ ঘণ্টা পর অবশেষে এক অভাবনীয় ও অলৌকিক খবরের দেখা মিলেছে। গত ২৬ আগস্ট আঘাত হানা প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলার মাঝে ত্রিশূলী ৩এ (Trishuli-3A) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপে আচ্ছন্ন সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই রোমহর্ষক ও ঐতিহাসিক উদ্ধারের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না, যখন সেই আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই উদ্ধারকারী দলের চরম তৎপরতা এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সাংসদ শ্রীরাম নিউপানে-র তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সৌভাগ্যবান দুই ব্যক্তির নাম সঞ্জয় সাহ এবং কবির মহাজন। পেশায় সঞ্জয় একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং কবির মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ ২১৬ ঘণ্টা সুড়ঙ্গের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার পরপরই তাঁদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এয়ারলিফট করে সরাসরি রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হয়। সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জয় সাহকে বর্তমান চিকিৎসার জন্য ছাউনির বীরেন্দ্র আর্মি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদিকে কবির মহাজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে। নেপালি সেনা তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারের সমস্ত বিবরণ ও ছবি শেয়ার করেছে।
গত ২৬ আগস্ট রাসুওয়া এলাকায় ভাটকোশী নদীর উথালপাথাল জলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল সুড়ঙ্গটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে সীমিত পরিমাণে আটকে থাকা অক্সিজেন এবং বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশের জন্যই তাঁরা এতদিন চরম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবিত থাকতে পেরেছেন। শুক্রবার সকালে উদ্ধারের সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর বা কথা বলার শব্দ শুনতে পান উদ্ধারকর্মীরা। এরপরই নেপালি সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি চৌকস দল কোনো সময় নষ্ট না করে সুড়ঙ্গের ভেতর প্রবেশ করে এবং আস্তরণ সরিয়ে তাঁদের নিরাপদ বাইরে নিয়ে আসে।
এই অলৌকিক ঘটনা সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা বাকি নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবার এবং উদ্ধারকারী দলগুলির মনে নতুন করে আশার বাতি জ্বালিয়েছে। এর আগে সাংসদ শ্রীরাম নিউপানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এদিকে, নেপাল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যায় সারা দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেড়ে প্রায় ১২৯০-এ পৌঁছেছে। বর্তমানে নেপালি সেনা এবং বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল টিমগুলির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা অন্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধার করার জন্য তাদের চিরুনি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছে।