রাজস্থানের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাট বিপ্লব! জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কারে ভজন লাল সরকারের ১,২০০ কোটির মেগা মাস্টারপ্ল্যান

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো আমূল বদলে দিতে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজস্থানের ভজন লাল শর্মা সরকার। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলির সংস্কার এবং ছাত্রছাত্রীদের সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষাঙ্গন উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১,২০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দের এই রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, যা আগামী দিনে সরকারি শিক্ষার মানচিত্রে বিপ্লব আনতে চলেছে।
রাজস্থানের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার লক্ষ্য নিয়ে মোট ১,২৯৩টি নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার এই মহৎ উদ্দেশ্যে ১,০৯৬.৫৫ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজস্থান জুড়ে প্রায় ৩,৭৬৮টি স্কুল ভবনকে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর পরিবর্তে নতুন ও আধুনিক ভবন গড়ে তোলা হবে।
সমগ্র শিক্ষা অভিযানের অধীনে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্তরভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৭৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতি স্কুলের জন্য ১০ কোটি ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির প্রশস্ত ক্যাম্পাস ও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে।
এই বিশাল বাজেটের একটি বড় এবং সুনির্দিষ্ট অংশ রাজ্যের প্রধান জেলাগুলির উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। এর মধ্যে জয়পুর জেলায় ১৪৩টি স্কুলের সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ১৯,৩৪০.১৪ লক্ষ টাকা এবং উদয়পুর জেলায় ৩৯৩টি স্কুলের ব্যাপক উন্নয়ন ও নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ২৪,৭৩৩.০৬ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এই মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির হাজার হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে এবং তাদের পঠনপাঠনের মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তবে প্রশাসনিক অনুমোদন মিললেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং তার জেরে সম্ভাব্য আচরণবিধি জারির কারণে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু হতে সামান্য বিলম্ব হতে পারে। সরকারের তরফ থেকে সমস্ত আর্থিক অনুমোদন সম্পন্ন হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং গ্রাউন্ড ওয়ার্ক শুরু করতে প্রায় দুই মাসের মতো সময় লাগতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আচরণবিধি প্রত্যাহার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ১,২৯৩টি স্কুলের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয়ে যাবে, যা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।