তড়িঘড়ি দেহ দাহ করার রহস্য! অভয়া কাণ্ডে তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে গ্রেফতার হতেই খুলল জট!

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের মর্মান্তিক ঘটনাটি গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। ধর্ষণ ও খুনের সেই নৃশংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই ঘটনার তদন্তে সামনে এল চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি। ভিকটিমের মরদেহ রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে দাহ করার বিস্ফোরক অভিযোগে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ ও খড়দা থানার যৌথ উদ্যোগে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বেঙ্গালুরুর একটি গোপন গেস্ট হাউসে গা ঢাকা দিয়েছিলেন অভিযুক্ত সোমনাথ দে। তদন্তকারীদের চোখে পুরোপুরি ধুলো দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নিজের কোনো মোবাইল ফোন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছিলেন না। অবশেষে দীর্ঘ তল্লাশি ও গোয়েন্দা জালে ফেলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এর আগে এই একই মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভয়াকাণ্ডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির বিশেষ অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হাতে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেই খড়দা থানায় নতুন করে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। এই নতুন মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং তৎকালীন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কঠোর ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বেআইনিভাবে বাধা দান, অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি নথিপত্রে কারসাজি করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে সোমনাথ দের এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির পর মুখ খুলেছেন অভয়ার মা। ক্ষোভ ও আক্রোশের সুরে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “এটা তো হওয়ারই ছিল! ও দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সেদিন তিনজন একসঙ্গে মিলে আমার মেয়ের শবদেহ জোর করে এনে পুড়িয়ে দিয়েছিল। গ্রিন করিডোর তৈরি করে আমাদের পরিবারের কাউকে বা কোনো আত্মীয়কে না জানিয়ে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়। আমাদের পর্যন্ত সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এত বড় দায়িত্ব তাকে কে দিয়েছিল এবং কার অনুমতিক্রমে গাড়ির চালককে সরিয়ে মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে আর জি কর থেকে মরদেহ এনে এখানে ফেলে রাখা হলো? আমরা তখন টালা থানায় দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে বসেছিলাম।” অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই একে একে আইনের আওতায় আসবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।