২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আসানসোলের মাটি থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে এসিড অ্যাটাক—একের পর এক ইস্যুতে রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাফ বার্তা, “বাংলার মহিলাদের অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারে একমাত্র বিজেপি-ই।”
আরজি কর নিয়ে বেনজির আক্রমণ এদিন আসানসোলের জনসভা থেকে আরজি করের ঘটনার উল্লেখ করে মোদি বলেন:
“বাংলা শক্তি পুজোর মাটি, কিন্তু এই নির্মম সরকারের আমলে আরজি করের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। লজ্জা লাগে যখন দেখি সরকার দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার বদলে ধর্ষকের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এসিড অ্যাটাক বা নারী নিগ্রহ—সবক্ষেত্রেই বাংলা আজ শীর্ষে। বাংলার মা-বোনেরা এখন কেবল নিরাপত্তা আর অধিকার চান।”
লক্ষ্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে মোদি এদিন একটি বড় ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের পাপের ঘড়া এবার পূর্ণ হয়েছে এবং মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। তাঁর চ্যালেঞ্জ, “৪ মে-র পর বাংলা বিকাশের নতুন রূপ দেখবে। এবার বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
বিজেপির ‘নারী-কল্যাণ’ কার্ড বাংলার নারী ভোট ব্যাংককে প্রভাবিত করতে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রের একগুচ্ছ প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন:
লাখপতি দিদি: মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতে বিজেপি বদ্ধপরিকর।
আবাস যোজনা: কেন্দ্রীয় সরকার এখন বাড়ির মালিকানা সরাসরি পরিবারের মহিলাদের নামেই দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষায় নারী: দেশের মেয়েরা আজ যুদ্ধবিমান চালাচ্ছে, অথচ বাংলায় তাঁরা ঘরেও নিরাপদ নন।
তৃণমূলকে ‘ধোঁকাবাজ’ তকমা প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে বাংলার মানুষ কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং তৃণমূল—সবাইকেই ভরসা করেছে। কিন্তু প্রত্যেকেই বাংলার মানুষের স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। তিনি ভোটারদের কাছে আবেদন জানান, মা-বোনেরা যত বেশি করে বিজেপির পাশে দাঁড়াবেন, পরিবর্তনের ভিত তত বেশি মজবুত হবে।





