“ধর্ষকদের খুঁজে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে”, দুর্গাপুর কাণ্ডে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে গর্জন শুভেন্দু অধিকারীর

বিজেপি যদি আগামীতে বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তবে পার্কস্ট্রিট, কামদুনি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দুর্গাপুরের নারী নির্যাতনের প্রতিটি মামলার ফাইল ফের খোলা হবে। রবিবার দুর্গাপুরে কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে এমন বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি সাফ বলেন, “ধর্ষকরা যেখানেই থাকুক, খুঁজে বের করে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে।”

“তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের বাঁচাচ্ছে রাজ্য সরকার”

দুর্গাপুর-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় রাজ্য সরকার তাদের বাঁচাতে চাইছে, এমন গুরুতর অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্য সরকারের কাজ ছিল হসপিটালে মেয়েটাকে আটকে রেখে পুলিশকে দিয়ে ১৬৪-এর গল্প ফেঁদে গণধর্ষণকে ধর্ষণ বলে দেখানো। কারণ, অভিযুক্তরা তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ।”

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “এক অভিযুক্ত দুর্গাপুর পৌরনিগমের অস্থায়ী কর্মচারী। ও এবং ওর বাবা তৃণমূলের পদাধিকারীও বটে।”

“মমতাকে প্রাক্তন না করলে কোনও বাড়ি সুরক্ষিত নয়”

শুভেন্দু সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন না করলে কোনও বাড়ি সুরক্ষিত নয়।” তিনি বাংলার মানুষকে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এপ্রিল মাসে নতুন সরকার তৈরি হতে চলেছে। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন, আমরা প্রত্যেকটা নারী ঘটনার বিচার করব।”

যদিও অভিযুক্তের পৌরসভার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রাখি তিওয়ারী। তিনি বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে তার তীব্র নিন্দা করছি। যে দোষী তার সাজা চাইছি।” তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “বিদ্যুৎ দপ্তরে যে ঠিকাদার সংস্থা কাজ করে, অভিযুক্ত সেখানে কর্মী ছিলেন। পুরসভার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন।”

যদিও স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার এলে কামদুনি, পার্কস্ট্রিট থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত কোনও নারী নির্যাতনের বিচার বন্ধ থাকবে না। তবে শুভেন্দুর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।