‘ধর্মীয় উগ্রপন্থার ছাপ স্পষ্ট’, চিকিৎসা কর্মীদের উপর হামলা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, বিজেপি-র কড়া দমন নীতির দাবি

মধ্যপ্রদেশের বিদশা জেলা সদর হাসপাতালে গত শুক্রবার রাতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক মহিলা রোগীকে চিকিৎসার জন্য হিজাব খোলার অনুরোধ করা হলে রোগীর আত্মীয়রা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় হাসপাতালে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

🏥 হাসপাতাল জুড়ে ভাঙচুর ও মারধর
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এক মহিলা রোগীকে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক যখন চিকিৎসার আগে রোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁকে হিজাব খুলে মুখ দেখাতে বলেন, তখন রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

নিয়ম ভঙ্গ: প্রথমে মৌখিক তর্কাতর্কি শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা শারীরিক হামলায় রূপ নেয়।

ক্ষয়ক্ষতি: চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর করা হয়। ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা চেয়ার-টেবিল, এমনকি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মনিটরও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় একাধিক ডাক্তার ও নার্স আহত হয়েছেন।

একজন নার্সের বক্তব্য, “আমরা রোগীকে অপমান করিনি, শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যই মুখ দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। একজন সহকর্মীকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়।”

👮 পুলিশি পদক্ষেপ ও এফআইআর
ঘটনার পরপরই হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। বিদশা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে।

হাসপাতাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সরকারি কর্মীর উপর হামলার অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ডাক্তার-নার্সদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

🗣️ রাজ্য জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিজেপি-র অভিযোগ: বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ করেছে, এ ধরনের ঘটনায় ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থার’ ছাপ স্পষ্ট এবং যারা চিকিৎসা কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে, তাদের কড়া হাতে দমন করতে হবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবি: অন্যদিকে, স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির ফল এবং কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে চিকিৎসক মহলের মত, রোগ নির্ণয়ের স্বার্থে মুখ দেখা প্রয়োজন, এবং এই বিষয়টিকে ধর্মীয় ইস্যুতে রূপান্তরিত করা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘটনাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy