ধর্মাশ্রমে নৃশংসতার অভিযোগ, শোরগোল ফেলে দেওয়া অভিযোগকারীই গ্রেপ্তার

কর্ণাটকের বিখ্যাত তীর্থস্থান ধর্মস্থলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছিল সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে। এক প্রাক্তন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অভিযোগ করেছিলেন যে, এখানে গত ২০ বছর ধরে খুন, ধর্ষণ এবং লাশ চাপা দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন এই ঘটনার মোড় ঘুরে গেছে। সেই অভিযোগকারীকেই গ্রেপ্তার করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
কে এই অভিযোগকারী?
গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তি ধর্মস্থলের একজন প্রাক্তন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তিনি দাবি করেছিলেন যে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাজ করার সময় তিনি অনেক নৃশংস ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন। তার অভিযোগ ছিল, তাকে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য লাশ জোর করে মাটি চাপা দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং কিছু লাশে ধর্ষণের চিহ্নও ছিল। এমনকি, এই অভিযোগ তিনি আদালতে গিয়েও স্বীকার করেন।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার
অভিযোগ পাওয়ার পর SIT তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য এবং নথিপত্রে প্রচুর গরমিল রয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর SIT তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
যদিও SIT প্রধান প্রণব মোহন্তীর দল ধর্মস্থলের বিভিন্ন এলাকায় খনন কাজ চালিয়েছে এবং দুটি জায়গা থেকে মানবদেহের কঙ্কালের কিছু অংশও উদ্ধার করেছে। এর ফলে অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সরকারের বক্তব্য
কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর বিধানসভায় বলেছেন, “তদন্ত সবে শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র খনন কাজ হয়েছে, পুরো গল্পটা এখনো জানা বাকি। যদি অভিযোগকারীর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।”