‘ধন্যবাদ শুভেন্দু অধিকারী!’ স্কুল সার্ভিস কমিশনের হারানো গৌরব ফেরাতে কার ঘাড়ে বড় দায়িত্ব দিল রাজ্য?

পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন বা ডব্লিউবিসিএসসি (WBCSSC)-এর ভাবমূর্তি বদলাতে এবং এর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এই কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে হোঁচট খেয়েছিল। আদালতের নজরদারি ও একের পর এক অভিযোগে কলঙ্কিত হয়েছিল কমিশনের গরিমা। সেই ‘দূষিত’ ও কলুষিত পরিবেশ থেকে কমিশনকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবার চার জন নতুন বিশিষ্ট সদস্যকে কমিশনে নিয়োগ করল সরকার। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন এই চার সদস্যের মধ্যে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশনের তিনজন প্রাজ্ঞ সন্ন্যাসী এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) কলকাতার একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক। গত মঙ্গলবার এসএসসির চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে এই বিশেষ নিয়োগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। রাজ্যপাল কর্তৃক অনুমোদিত এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, West Bengal Central School Service Commission Act, 1997-এর Section 3(4) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে কার্যকরভাবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের এই সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপের তীব্র প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের, তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দজী মহারাজ, স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানানন্দজী মহারাজ ও স্বামী তত্ত্বসারানন্দজী মহারাজের মতো আধ্যাত্মিক চেতনা, শিক্ষা ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ ব্যক্তিত্বদের এই উচ্চ দায়িত্ব অর্পণ করার অর্থ হলো—শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমিত না রেখে শিক্ষার্থীর চরিত্র, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম গড়ে তোলার ভিত মজবুত করা। জ্ঞান ও নৈতিকতার এমন অপূর্ব সমন্বয় আগামী প্রজন্মকে এক আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে এগিয়ে দেবে। এই সুমহান সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের সরাসরি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে সরকার যে বার্তা দিল, তাতে আগামী দিনে স্কুল সার্ভিস কমিশনের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।