হঠাৎ কেন ইস্তফা? এই প্রশ্নই আপাতত দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্রভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একজন ব্যক্তি, যিনি সারাদিন তাঁর দাপ্তরিক কাজ করলেন, কিন্তু সন্ধ্যা হতেই হঠাৎ করে ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা জমা দিলেন। এই গোটা বিষয়টি বিরোধী শিবিরের চোখে ‘অস্বাভাবিক’ ঠেকেছে, যার প্রভাব পড়েছে সংসদের উভয় কক্ষেও।
মঙ্গলবার দুপুর দুটো পর্যন্ত সংসদের উভয় কক্ষই মুলতুবি করা হয়েছে। নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গেছে, জগদীপ ধনখড়ের হঠাৎ ইস্তফা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। আর সেই তর্ক-বিতর্কের কারণে ক্ষণিকের মধ্যেই রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করা হয়।
অন্যদিকে, লোকসভায় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বারবার বিরোধীদের নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু ধনখড়-সহ আরও কয়েকটি ইস্যুতে বিরোধীরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন। সংসদ কক্ষেই তাঁরা আসন ছেড়ে প্রতিবাদে নামেন, যুক্তি ছেড়ে প্রতিবাদে নামে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই লোকসভার অধিবেশনও মুলতুবি করা হয়।
কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরীর দাবি, “উনি তো বেশ লম্বা-চওড়া। ওনার আবার কী শারীরিক সমস্যা হলো? আর যদি অসুস্থবোধ করেও থাকেন, এইমস রয়েছে। সেখানে চিকিৎসা করান। এটা আসলে সরকারি রোগ, যা বিজেপির মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। এবার সেই রোগে উনিও আক্রান্ত।” সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “তিনি এককালে নিজে আরএসএস (RSS)-এর হয়ে ওকালতি করেছেন। অর্থাৎ তিনি আরএসএস দ্বারাই পরিচালিত। হয়তো ওদের পরামর্শেই করেছেন। এর পিছনে রাজনীতি তো অবশ্যই রয়েছে। আর আরএসএস-এর সঙ্গে একটা বিরোধিতা তো দেখা যাচ্ছেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপরাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগ নিঃসন্দেহে আসন্ন দিনগুলিতে জাতীয় রাজনীতিতে আরও আলোচনার জন্ম দেবে এবং এর পেছনের কারণ নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়বে।





