দ্বাদশ পাশেই বিশাল ডাক্তারবাবু! গুরুগ্রামে ভুয়ো ক্লিনিক ও অবৈধ গর্ভপাচক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। কিন্তু নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুকৌশলে চালাচ্ছিলেন ক্লিনিক। গুরুতর অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গর্ভপাতও করানো হচ্ছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক রোমহর্ষক ছদ্মবেশী অভিযানে ২৭ বছরের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। ধৃতের নাম কমল মাহাতো। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে গুরুগ্রামের ঘাটা গ্রামে বসবাস করতেন এবং সেখানেই এই অবৈধ কারবার ফেঁদে বসেছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কমল গুরুগ্রামের সেক্টর-৬৫ এলাকায় ‘কমল ক্লিনিক’ নামে একটি চিকিৎসালয় চালাতেন। অভিযোগ, কোনো ধরনের স্বীকৃত ডাক্তারি ডিগ্রি ছাড়াই তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং গর্ভবতী মহিলাদের অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর মতো বিপজ্জনক কাজ চালাতেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রি-কনসেপশন অ্যান্ড প্রি-ন্যাটাল ডায়াগনস্টিক টেকনিকস (PCPNDT) আইনের নোডাল অফিসারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এক গর্ভবতী মহিলাকে ছদ্মবেশী গ্রাহক বা ডিকয় কাস্টমার হিসেবে ওই ক্লিনিকে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর জন্য ওই মহিলার কাছ থেকে ১,২০০ টাকা নিয়েছিলেন অভিযুক্ত কমল। পাশাপাশি, তাঁকে একটি মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (MTP) কিট দিয়ে সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করার নিয়মও বুঝিয়ে দেন তিনি।

পূর্বনির্ধারিত সংকেত পাওয়ার পরই যৌথ দল নিয়ে ওই ক্লিনিকে আকস্মিক হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক এমটিপি কিট, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় ভুয়ো চিকিৎসক কমল মাহাতোকে। পুলিশি জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাফ স্বীকার করেছে যে, সে মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে এবং তার কাছে কোনো ধরনের বৈধ ডাক্তারি ডিগ্রি নেই।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের ওই ক্লিনিকটি মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (MTP) আইন অনুযায়ী কোনোভাবেই নিবন্ধিত ছিল না। এছাড়া রোগীদের চিকিৎসার কোনো সঠিক নথি কিংবা ওষুধ কেনাবেচার বৈধ কোনো রেকর্ড বা বিলও পুলিশকে দেখাতে পারেননি তিনি। গুরুগ্রাম পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কীভাবে সে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ক্লিনিক চালিয়ে যাচ্ছিল, এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং অতীতে কতজন মহিলার অবৈধ গর্ভপাত সেখানে করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে জোরদার তদন্ত চলছে।