দোকানের মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার! বরানগরে খুন স্বর্ণ ব্যবসায়ী, দিল্লি থেকে ফোন আসতেই ফাঁস রহস্য!

বরানগর থানা থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বে এক সোনার দোকানের ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেহ উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম শঙ্কর জানা, তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গতকাল (শনিবার) দুপুরে এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে।
কীভাবে ফাঁস হলো রহস্য?
ঘটনার সময় শঙ্কর জানা দোকানে একাই ছিলেন। খুনের পর দোকানের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়ে দুষ্কৃতীরা শাটার নামিয়ে চলে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, ব্যবসায়ীর ছেলে এই সময় দিল্লি বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি দূর থেকে দোকানের সিসি ক্যামেরা বন্ধ দেখে সন্দেহ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশে, এবং বন্ধ দোকান থেকে উদ্ধার হয় ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা দেহ। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
মৃতের ভাই সন্তোষ জানা বলেন, “গতকাল দুপুরে সিসিটিভি বন্ধ দেখে আমার ভাইপো ফোন করেছিল। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। আমাদের অনুমান দুষ্কৃতীরা দোকানে ঢুকে সিসিটিভি বন্ধ করে মারধর করে খুন করে।”
ক্রেতা সেজে হামলা, তদন্তে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দুপুর ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। আশপাশের দোকান বন্ধ থাকার সুযোগ নেয় আততায়ীরা।
দুষ্কৃতী: জানা যাচ্ছে, ক্রেতা সেজে ৫ জন দুষ্কৃতী দোকানে এসেছিল। তাদের মধ্যে ৩ জন দোকানের ভেতরে ঢোকে এবং ২ জন বাইরে পাহারা দিচ্ছিল।
লুঠ: ব্যবসায়ীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তবে ঠিক কত পরিমাণ সোনা লুট হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্ত: পুলিশ দোকানের ভেতরের এবং উল্টোদিকের বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে। খুনের আগে পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা চালু ছিল, এরপর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই নৃশংস খুনের ঘটনায় এলাকায় স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।