দেহ সৎকারে কারসাজি নাকি প্রমাণ লোপাট? ওড়িশা থেকে ধৃত প্রাক্তন নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

আরজি কর হাসপাতালের নৃশংস নির্যাতিতার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ওড়িশার বালাসোর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নির্মল ঘোষকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ১৪ অগস্ট ২০২৭-এর ভোররাতেই তাঁকে ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে সরাসরি খড়দা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওড়িশার বালাসোর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি পড়তে হলেও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস দল অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই অপারেশন সফল করে। নির্মলের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই পানিহাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম স্বস্তি ও খুশির হাওয়া দেখা দেয়। অনেকে আবার একে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হিসেবেও অভিহিত করছেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবার করা দ্বিতীয় এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনার পর নির্যাতিতার দেহ পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরজবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে ছিলেন তৎকালীন শাসকদলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা নির্মল ঘোষ। নির্যাতিতার মৃতদেহ তাঁর নিজ বাড়ি থেকে শ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করার প্রতিটি পদক্ষেপে নির্মলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক ও গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এত দ্রুত দেহ সৎকারের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মূল ঘটনা থেকে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ চিরতরে লোপাট করা। নির্যাতিতার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত যাতে কোনোভাবেই সম্পন্ন না হতে পারে, সেই পরিকল্পনা থেকেই তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তড়িঘড়ি পুরো প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করেছিলেন তিনি।

এদিকে, নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির পর তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি তুলেছে। ধৃত নেতার কন্যা ছন্দা ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই এই গ্রেফতারি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইতিপূর্বেই পানিহাটিতে এসে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন এবং ঠিক তার পরেই নতুন করে এফআইআর দায়ের করে তাঁর বাবাকে বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। পরিবার আরও দাবি করেছে যে, সিবিআই তদন্ত চলাকালীন নির্মল ঘোষ কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সমস্তরকম সহযোগিতা করেছেন এবং তখন সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই গ্রেফতারি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজ্যজুড়ে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।