দেশের হয়ে ৪টি সোনা জয়ী! পেটের টানে আজ রাঁচির রাস্তায় সবজি বেচছেন আন্তর্জাতিক থ্রো-বল তারকা অমরদীপ!

দেশের হয়ে চারটি আন্তর্জাতিক সোনা এনে দিয়েও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার ঝাড়খণ্ডের কৃতি থ্রো-বল খেলোয়াড় অমরদীপ। পেটের টানে এবং পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে বর্তমানে রাঁচির রাস্তায় সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ২৯ বছরের এই অ্যাথলিট। পাশাপাশি, বাড়তি উপার্জনের আশায় রাত জেগে ক্যাবের স্টিয়ারিংও ধরতে হচ্ছে তাঁকে। দিনের পর দিন সরকারি নীতি ও উদাসীনতার জেরে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দেশের এই কৃতি সন্তান।

অমরদীপের ক্রীড়া জীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল হলেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি তাঁর কপালে জোটেনি। হরিয়ানা, ছত্তীসগড় বা বিহারের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সতীর্থরা যখন সরকারি চাকরির সমস্ত সুযোগ-সুবিধা অনায়াসে পেয়ে গেছেন, তখন ঝাড়খণ্ডের জটিল ক্রীড়া নীতির গেরোয় অমরদীপ সম্পূর্ণ ব্রাত্য থেকে গিয়েছেন। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় এশিয়ান জুনিয়র থ্রো-বল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম সোনা জয়ের পর ২০১৭ সালে কাঠমান্ডু, ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরু এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান থ্রো-বল চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের হয়ে মোট চারটি সোনা জেতেন তিনি। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বারবার সরকারের কাছে দরবার করলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী চাকরি বা সরকারি সহায়তা।

পরিবারে চরম অভাবের কারণে মালয়েশিয়ায় টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার সময় তাঁকে চড়া সুদে ৬৫ হাজার টাকা ধার করতে হয়েছিল। বৃদ্ধ বাবা সবজি বিক্রেতা এবং মা বাড়ি বাড়ি সবজি ফেরি করলেও অভাব মেটেনি। রাতভর ক্যাব চালিয়ে সকালে ক্লান্ত শরীরেই প্র্যাকটিসে নামেন অমরদীপ। আসন্ন অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই মর্মান্তিক সংগ্রামের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নিজে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বর্তমান ক্রীড়া নীতি শিথিল করে দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য ক্রীড়া দফতর।