পারফেক্ট দই পাততে গিয়ে জল কেটে যাচ্ছে? মানুন হেঁশেলের এই ৫টি জাদুকরি ট্রিকস, কেকের মতো জমে যাবে দই!

অনেকেই বাড়িতে শখ করে টক দই পাততে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়েন। কখনো দেখা যায় দই ঠিকমতো জমেনি, আবার কখনো অতিরিক্ত জল কেটে পুরো পরিশ্রমটাই মাটি হয়ে গেছে। অথচ বাটি পুরো উপুড় করে দিলেও দইয়ের এক ফোঁটাও নিচে পড়বে না—এমন নিখুঁত, মাখনের মতো মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর চাপ দই তৈরির আদিম ও পরীক্ষিত কায়দা বহু যুগ ধরে আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা নিখুঁতভাবে মেনে চলতেন। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা প্রিজারভেটিভ ছাড়াই সাবেক আমলের এই বিশেষ হেঁশেল কৌশল কাজে লাগিয়ে দোকানের কেনা প্যাকেটজাত দইকেও সহজেই পেছনে ফেলে দেওয়া সম্ভব।
বাড়ি বসেই একেবারে পারফেক্ট চাপ দই পেতে হলে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, দই কতটা ঘন হবে তা মূলত নির্ভর করে দুধের গুণমানের ওপর। পাতলা বা জল মেশানো দুধে কখনো চাপ দই বসানো সম্ভব নয়। তাই সবসময় ফুল ফ্যাট বা ফুল ক্রিম সমৃদ্ধ দুধ ব্যবহার করা আবশ্যক। খাঁটি মোষের দুধ পেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, নতুবা ভালো মানের প্যাকেটজাত ফুল ক্রিম দুধ দিয়েও চমৎকার কাজ চলে। দ্বিতীয়ত, কাচ বা স্টিলের বাসনের পরিবর্তে মাটির হাঁড়িতে দই পাতলে সবচেয়ে ভালো ফল মেলে, কারণ মাটির বিশেষ গুণ হলো এটি অতিরিক্ত জল শোষণ করে নেয়। তবে নতুন হাঁড়ি ব্যবহারের আগে তা ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার জলে ডুবিয়ে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা চলবে না; পরিবর্তে লবণ ও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ভালো করে ঘষে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
তৃতীয়ত, দুধ জ্বাল দেওয়ার সময়ই আসল কৌশল লুকিয়ে থাকে। কড়াইতে দুধ ফোটার সময় হাতা দিয়ে ওপর থেকে বারবার নিচে ঢালতে হবে। অন্তত ১০ থেকে ১২ বার এই প্রক্রিয়া চালালে প্রচুর ফেনা তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে দইয়ের ওপর একটি ভারী ও লোভনীয় মালাইদার সর সৃষ্টি করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। চতুর্থত, দুধ নামানোর পর তাপমাত্রার সঠিক পরিমাপ অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত গরম দুধে সাজা দিলে যেমন দুধ কেটে যায়, তেমনই ঠান্ডা দুধে দই বসে না। আঙুল ডুবিয়ে যদি হালকা উষ্ণ বা আরামদায়ক তাপমাত্রা অনুভূত হয়, তবেই বুঝতে হবে দই পাতার জন্য দুধ নিখুঁতভাবে প্রস্তুত হয়েছে। পঞ্চমতম, সাজা মেশানোর ক্ষেত্রে তাজা টক দই ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। হাঁড়ির গায়ে অল্প সাজা মাখিয়ে এবং বাকি অংশ দুধে ভালোভাবে ফেটিয়ে নেওয়ার পর গরমকালে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং শীতকালে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা কোনো নিরাপদ ও উষ্ণ স্থানে হাঁড়িটি না নাড়িয়ে ঢেকে রাখতে হবে। দই জমার পর ফ্রিজে এক-দু’ঘণ্টা ঠান্ডা করলেই কেকের মতো শক্ত হয়ে বসে যাবে সুস্বাদু চাপ দই।