ক্যাফে থেকে মোদির ইনস্টাগ্রাম রিল! ভারতের হেঁশেলে কীভাবে রাজত্ব জমাচ্ছে বিদেশি ফল অ্যাভোকাডো?

অ্যাভোকাডো—একসময়ের অপরিচিত বিদেশি এই ফলটি আজ ভারতীয় খাদ্যপ্রেমীদের থালায় জায়গা করে নিয়েছে। সুপারমার্কেটের তাক হোক কিংবা নামীদামি ক্যাফের মেনু—সব জায়গাতেই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অ্যাভোকাডো। বিশেষ করে শহুরে জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মের কাছে ব্রেকফাস্টের অন্যতম ফেভারিট হয়ে উঠেছে এই ফল দিয়ে তৈরি ‘অ্যাভোকাডো টোস্ট’। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ইনস্টাগ্রাম রিলে ভারতের বাজারে এই ফলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং দেশেই এর চাষের অপার সম্ভাবনার দিকটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর শেয়ার করা ভিডিওটিতে অন্ধ্রপ্রদেশের এক প্রগতিশীল কৃষকের সাফল্যের গল্প সামনে এসেছে। বন্ধুর খামারে অ্যাভোকাডো দেখে উৎসাহিত হয়ে ওই কৃষক ইউটিউবের সাহায্য নিয়ে এই চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় চার টন অ্যাভোকাডো উৎপাদন করে সরাসরি স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছেন। শুধু অন্ধ্রপ্রদেশই নয়, হ্যারিসন্স মালয়ালমের মতো সংস্থার হাত ধরে বাণিজ্যিকভাবে ‘হ্যাস অ্যাভোকাডো’ (Hass avocado)-র ফলনও নজর কাড়ছে। চিকিৎসক শ্রীরাম নেনে জানিয়েছেন, ভারতের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার মতোই অনুকূল, যা এই ফল চাষের জন্য আদর্শ।

কেন জেন-জির এত পছন্দ এই খাবার? ক্যাফের মেনু খুললেই যে অ্যাভোকাডো টোস্ট দেখা যায়, তা তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনই দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। টোস্ট করা পাউরুটির উপর মাখানো অ্যাভোকাডো, সঙ্গে পোচড এগ, চিলি ফ্লেক্স বা ফেটা চিজের ছোঁয়া—সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এর আকর্ষণ ও নান্দনিকতা তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে টানে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাভোকাডো টোস্ট কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তার সঙ্গে ব্যবহৃত উপাদানের ওপর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে উপকারী আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার ও ভিটামিন, যা সঠিক উপায়ে খেলে শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।

আজ যে অ্যাভোকাডো সাধারণ মানুষের পাতে জায়গা করে নিয়েছে, তার পিছনে রয়েছে দেশের কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং কৃষকদের নিত্যনতুন ফসল উৎপাদনে আগ্রহ। ডিজিটাল মাধ্যমের সঠিক ব্যবহার এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের জেরে ভারতের বাজারে অ্যাভোকাডোর এই জয়যাত্রা আগামী দিনে কৃষি অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।