দেশজুড়ে বিরাট স্বস্তি! কীভাবে রাতারাতি দারিদ্র্যের গ্রাফ নামল রেকর্ড তলানিতে?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এসেছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন। গত কয়েক বছরে দেশের দারিদ্র্যের গ্রাফ অবিশ্বাস্য গতিতে নিচের দিকে নেমেছে। বিশ্বব্যাঙ্কের অক্টোবর ২০২৬-এর ‘দারিদ্র্য ও সমতা বিষয়ক তথ্য’ (Poverty and Equity Brief) অনুসারে, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই নতুন প্রতিবেদন দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নতির এক উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্ন-মধ্য আয়ের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের অনুপাত ২০১১ সালের ৫৭.৭ শতাংশ থেকে নাটকীয়ভাবে কমে ২০২৩ সালে ১৬.১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বিগত এক দশকে প্রায় ৪৯৬ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক হিসেব বলছে, দৈনিক ৪.২ ডলার বা প্রায় ৩৭০ টাকার কম ব্যয় করা মানুষের সংখ্যা আগামী দিনে আরও কমবে। ২০২৬ সালের ১৪.২ শতাংশ থেকে এই হার কমে ২০২৮ সাল নাগাদ ১২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক।
অন্যদিকে, চরম দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানও এক স্বস্তিদায়ক ছবি দেখাচ্ছে। ২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যার যেখানে ২৭.১ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করতেন, ২০২৩ সালের মধ্যে সেই হার কমে মাত্র ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে মুদ্রার অপর পিঠে অন্য একটি পরিসংখ্যানও সামনে এসেছে। যদি আরও কিছুটা উচ্চতর আয়ের মাপকাঠিতে দারিদ্র্যসীমা মাপা হয়, তবে দেখা যাচ্ছে যে ২০২৩ সালে ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দৈনিক ৮.৩ ডলারের দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করছিলেন। এই চিত্রটি প্রমাণ করে যে, সার্বিক দারিদ্র্য সূচকে অভাবনীয় উন্নতি হলেও এখনও দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা ও আয়ের পরিধি বাড়ানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে ভারতের এই অভাবনীয় দারিদ্র্য হ্রাসের পেছনে মূল কারণগুলো কী কী? বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদনে সেই কারণগুলিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থার মতে, দেশে দারিদ্র্য হ্রাসের পেছনে রয়েছে মূলত ক্রয়ক্ষমতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে আনুমানিক ১৩৪ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী একই সময়ের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল পরিবর্তনের নেপথ্যে গ্রামীণ মহিলাদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে যে মহিলারা মূলত গৃহবন্দী থাকতেন, তাঁরা এখন নিজেদের উপার্জনমুখী কাজে যুক্ত করছেন। এর ফলে পরিবারগুলিতে উপার্জনকারী সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাঁরা সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে সরাসরি অবদান রাখছেন। অর্থনৈতিক এই গতিশীলতা ভারতের সমাজব্যবস্থায় এক নীরব অথচ সুদূরপ্রসারী বিপ্লব ঘটাচ্ছে।